kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের নির্দেশে তদন্ত

উলিপুর উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের সত্যতা মিলেছে

উলিপুর (কু‌ড়িগ্রাম) প্রতি‌নি‌ধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২১:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উলিপুর উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের সত্যতা মিলেছে

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি সোলার সিস্টেমের (সৌরবিদ্যুৎ) প্রায় ৮৫ লাখ টাকা তছরুপের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তালিকাভুক্ত উপকারভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসে। তদন্ত শেষে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর বরাবর প্রেরণ করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদনের ১৩ পৃষ্ঠার সকল ডকুমেন্ট কালের কণ্ঠের হাতে এসেছে। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছর ২য় পর্যায়ে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) সোলার কর্মসূচির আওতায় ৪৭ লাখ ৮০ হাজার ৯৪৯ টাকার ২২টি প্রকল্প ও গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) সোলার কর্মসূচির আওতায় ৩৭ লাখ ১২ হাজার ৩৫৬ টাকার ২০টি প্রকল্পের অনুমোদ দেন জেলা কর্ণধার কমিটি। কিন্তু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন মন্টু উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ না করে রিসডা বাংলাদেশের এরিয়া ম্যানেজার রিটন মিয়ার সাথে যোগসাজসে বরাদ্দকৃত প্রকল্পের অর্থ তছরুপ করেন। এরই প্রতিকার চেয়ে জনৈক জয়নাল আবেদীন নামে এক ব্যক্তি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব মো. আবু বকর সিদ্দিক ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর পত্র প্রেরণ করেন। পরে জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাফিজুর রহমানকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করেন।

চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান, জেলা ত্রাণ পুর্নবাসন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সাহা, উলিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজুদ্দৌলা ও অফিস সহকারী কম্পিউটার অপারেটর আমিনুল ইসলামকে সাথে নিয়ে উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে তালিকা মোতাবেক সুবিধাভোগীদের বাড়িতে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করলে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলে।

এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন মন্টুর কাছে ব্যাখ্যা চাইলে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী হয়ে ভবিষ্যতে একরম ভুল করবেন না বলেও তার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

এদিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা রিসডা বাংলাদেশের এরিয়া ম্যানেজার রিটন মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রকল্পের অনুমোদিত তালিকা তাদের হাতে আসলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পূর্বের তালিকা বাতিল করে তার মনগড়া মত নতুন তালিকা মোতাবেক সোলার সিস্টেম স্থাপন করতে বাধ্য করান বলেও তার লিখিত বক্তব্যে জানান। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা সরেজমিন তদন্ত শেষে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে প্রতিবেদন দাখিল করলে। জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য গত ১৭ মে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরে সুপারিশ পত্র প্রেরণ করেন।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন মন্টু বলেন, আমি কোনো দুর্নীতি করিনি, তালিকায় কয়েকটি নাম পরিবর্তন করে অন্যদের সোলার প্যানেল দিয়েছি।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে যথারীতি তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. বেজাউল করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি এখন অধিদপ্তরে রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা