kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ঝিনুক পোড়া চুনেই চলে রীনার অভাবের সংসার

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৮:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঝিনুক পোড়া চুনেই চলে রীনার অভাবের সংসার

ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রায় বিপন্ন পেশাগুলোর মধ্যে ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরি করা পেশাটি অন্যতম। সেই ঝিনুক পুড়িয়েই এখনো কষ্টের সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন রীনা রানী (৩৫)। বেশি টাকা আয় না হলেও অভাবের সংসারে এটাই অনেক। অনেকটা চুনের চুল্লির সাদা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন রীনার অভাবের সংসার। পোড়া ঝিনুকের সাদা চুনের আয় দিয়েই সংসার চলে তার।

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার জোতবানী ইউনিয়নে কেটর বাজারে রীনা রানীর বাড়ি। রীনার স্বামী বিজয় কুমার চন্দ্র আর তিন সন্তান নিয়ে সেখানে চলে ঝিনুক থেকে চুন তৈরির কাজ। নিজ বাড়িতে চুন তৈরির চুলা বসানোর জায়গা না থাকায় পাকা রাস্তার পাশে চুল্লি বসিয়ে তৈরি করেন সাদা চুন।

সরেজমিনে রীনা রানীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির পাশের রাস্তার ওপর চুল্লি জ্বালানোর প্রস্তুতি চলছে। চুল্লির ভেতর ইট বসিয়ে সেখানে মাটির ভাঙা পাতিল টুকরো। তার ওপর থরে থরে কাঠের টুকরো। সেই কাঠের টুকরোগুলোতে আগুন দিয়ে তার ওপর ঝিনুকের আবরণ দিয়ে আবারো কাঠের টুকরো আবারো ঝিনুক দিয়ে পুরো চুল্লিকে সাজানো হয়েছে। পরে সেগুলোকে ছাকনি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে পানি মিশিয়ে তৈরি করা হবে চুন।

রীনা রানী বলেন, এক চুল্লি চুন তৈরিতে ব্যবহার হয় ৫ ডালি ঝিনুকের খোলস। সেই ঝিনুক আবার স্থানীয়সহ পাশ্ববর্তী উপজেলায় আদিবাসী গ্রামগুলো থেকে কিনে আনতে হয়। কখনো কখনো বৃষ্টি আসলে পুরো চুলির চুন নষ্ট হয়ে যায়। যদি ভালো ভাবে এক চুল্লি চুন তৈরি করা যায় সেখান থেকে এক মণ চুন উৎপাদন হয়। বর্তমান বাজারে সেই চুনের মূল্য ১৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা।

রানীর স্বামীর বিজয় চন্দ্র বলেন, এক চুল্লী ঝিনুক পুড়িয়ে প্রায় এক মণ চুন তৈরি হয়। সেই চুন স্থানীয় কয়েকটি বাজার ঘুরে সপ্তাহধরে বিক্রয় করতে হয়। যে পরিমাণ আয় হয় তা দিয়ে কোনো মতে সংসার চলছে।

তিনি বলেন, ১৫ বছর পূর্বে রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে এক প্রকার বিপদে পড়েই এখানে এসেছি। চুন তৈরির কলাকৌশল আমার স্ত্রীকে শিখিয়েছি। প্রায় দিন আমি অন্যের জমিতে দিনমজুরি করি। করোনার কারণে এখন ঠিকমত কাজও পাই না। চুন ব্যবসার মূলধন বাড়ানোর জন্য সরকার থেকে সহজ শর্তে ঋণ পেলে আমরা খুব উপকৃত হবো।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রীনা-বিজয় দম্পতি অনেক ভালো মানুষ। তাদের ব্যবসায়ীক মূলধন বৃদ্ধিতে ব্যাংক লোনের দরকার হলে আমার পক্ষ থেকে তাদের সবধরনের সহযোগিতা করা হবে। সেই সাথে ইউপি থেকে তাদের জন্য সুযোগ সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা