kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সেই হিরুকে ডেকেছে জামুকা

অনলাইন ডেস্ক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৭:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সেই হিরুকে ডেকেছে জামুকা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও ভাতাসহ সব ধরনের সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করা সেই আলমগীর হোসেন হিরুর বিরুদ্ধে তদন্ত করবে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল। জামুকার চেয়ারম্যান আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় জামুকা কার্যালয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই বাছাই করবে বলে জানা গেছে। এজন্য জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সহকারী পরিচালক প্রশাসন-২ স্বাক্ষরিত একটি পত্র দেওয়া হয়েছে। হিরুর বিরুদ্ধে তাঁর আপন সহোদরদের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এই যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

গত বছর ৬ ডিসেম্বর কালের কণ্ঠে ‘মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও সরকারি সুযোগ সুবিধা বড় দুই সহোদরের লিখিত অভিযোগ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

জানা গেছে, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বাওয়ার কুমারজানী গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হোসেন হিরুর মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে জানেন না তার বড় তিন সহোদর ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা। এ ছাড়া তিনি যে একজন মুক্তিযোদ্ধা জানেন না তার গ্রামেরই বাসিন্দা মির্জাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের তিন বারের নির্বাচিত সাবেক কমান্ডার অধ্যাপক দুর্লভ বিশ্বাসসহ গ্রামবাসীও।

জানতে চাইলে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে আলমগীর হোসেন হিরু বলেন, মির্জাপুর পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে একই কোম্পানীতে যুদ্ধ করেছেন তিনি।

কমান্ডার মোহাম্মদ আলী বলেন, ওই নামের কেউ তার সঙ্গে বা তার কোম্পানীতে যুদ্ধ করেননি। এত কিছুর পরও আলমগীর হোসেন হিরু নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে গোপনে তালিকাভুক্ত করেছেন নিজের নাম। গত কয়েক বছর ধরে ভাতাও উত্তোলন করছেন। মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় ইতিমধ্যে এক ছেলে পুলিশে এবং এক মেয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরিও দিয়েছেন। অপর ছেলেরও পুলিশে চাকরি হওয়ার পথে বলে জানা গেছে। 

এদিকে যুদ্ধ না করে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে গোপনে তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্ত করে দিনের পর দিন সরকারি সুবিধা নিচ্ছেন হিরু। এমন অভিযোগ তুলে গত বছর ডিসেম্বরে তার আপন বড় দুই ভাই আবদুল বাছেদ মুন্সী ও বাবুল হোসেন বাবু মিয়া মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। এ নিয়ে গত বছর ৬ ডিসেম্বর কালের কণ্ঠে ‘মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও সরকারি সুযোগ সুবিধা বড় দুই সহোদরের লিখিত অভিযোগ’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের তিন বারের নির্বাচিত কমান্ডার অধ্যাপক দুর্লভ বিশ্বাস বলেন, আলমগীর হোসেন হিরু যে মুক্তিযোদ্ধা ২০১০ সালে মুক্তিযোদ্ধা ভোটার তালিকায় তার নাম দেখে আমি জানতে পেরেছি। একই কথা বলেন, গ্রামের বাসিন্দা যুদ্ধকালীন সময়ের স্বেচ্ছাসেবক জোয়াহের আলী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা