kalerkantho

বুধবার । ১২ কার্তিক ১৪২৭। ২৮ অক্টোবর ২০২০। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ভাঙনে বিলীন ৩০০ পরিবার, অপেক্ষায় ১০০

কাশিমবাজার কি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে?

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৬:১৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কাশিমবাজার কি মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে?

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন। উপজেলা সদর থেকে দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। একেবারে তিস্তা নদীর অববাহিকায় গড়ে উঠেছে এ জনপদ। পার্শ্ববর্তী জেলা কুড়িগ্রামের উলিপুরের নিকটে হওয়ায় তাদের সাথে গড়ে ওঠেছে বন্ধন। ইউনিয়নটির কাশিমবাজার নামক এলাকা তিস্তার ওপারে হওয়ায় সব ধরনের নাগরিক সেবা বঞ্চিত এ জনপদের মানুষ। সম্প্রতি দুই দফা বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে তীব্র নদী ভাঙনের কবলে পড়ে এ জনপদের হাজারো মানুষ। কিন্তু দুই জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব নিয়ে রশি টানাটানিতে অসহায় তারা। একের পর এক জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হলেও জরুরি কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করেনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে তিস্তায় তীব্র ভাঙন দেখা দিলেও জরুরি কোনো পদক্ষেপ গ্রহন করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। এলাকাটি কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় হওয়ায় সেখানে বারবার বলেও কোনো ফল পায়নি স্থানীয়রা। জরুরি নদী ভাঙন ঠেকাতে কুড়িগ্রাম পাউবোর দ্বারস্থ হয়ে ব্যর্থ এ জনপদের মানুষ। তারা শুধুমাত্র স্রষ্টার পানে তাকিয়ে আছে প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার আশায়। 

তারা বলছে, উপজেলার বাসিন্দা হয়েও সরকারি সব ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ভাঙন ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহন না করা হলে অল্প সময়ের মধ্যে মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে যাবে কাশিমবাজার। তাই দ্রুত ভাঙনরোধে পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি তিস্তা পাড়ের বাসিন্দাদের।

সরেজমিন দেখা যায়, গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে গৃহহীনের খাতায় নাম লেখিয়েছে তিন শতাধিক পরিবার। তিস্তার ভয়াল গ্রাসে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে সহস্রাধিক একর ফসলি জমি। আরো শতাধিক ঘরবাড়ি ও প্রচুর আবাদি জমি ভাঙনের মুখে রয়েছে। অসময়ে তিস্তার এ ভাঙনে ইতোমধ্যে উলিপুর-সুন্দরগঞ্জ সওজের সংযোগ সড়ক নদী গর্ভে চলে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে নাজিমাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাজিমাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়, নাজিমাবাদ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নাজিমাবাদ আলিম মাদরাসা, কাশিমবাজার উচ্চ বিদ্যালয়, একাধিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি বেসরকারি অসংখ্যা স্থাপনা। তীব্র ভাঙনে আশেপাশের এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। যে কোনো সময় নদীর করালগ্রাসে পুরো এলাকাটি বিলীন হয়ে যাবে।

হরিপুর ইউনিয়নের পাড়াসাদুয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী বলেন, তিস্তার কয়েক দিনের অব্যাহত ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এ জনপদের মানুষ। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর দফায় দফায় নদী ভাঙনে হরিপুর ইউনিয়নের প্রায় সহস্রাধিক একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অনেকেই ঘরবাড়ি হারিয়ে বাঁধ ও বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাফিউল ইসলাম জিমি বলেন, গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নদী ভাঙনে গৃহহীন হয়েছে তিন শতাধিক পরিবার। বিভিন্ন সময়ে বন্যা আর নদী ভাঙনের ফলে পলি জমে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। নদীর সঠিক পরিচর্যা করা না হলে ভাঙন ঠেকানো অসম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, তিস্তার ভাঙন নদী তীব্র আকার ধারণ করেছে। আমরা ভাঙন রোধে বিভিন্ন স্থানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছি। এ ছাড়াও উপজেলার শ্রীপুর, চন্ডিপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নে স্থায়ী বন্যা রক্ষা বাঁধ নির্মাণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এটি নির্মাণ হলে স্থানীয়রা ভাঙন থেকে কিছুটা রক্ষা পাবে। আর হরিপুর এলাকার কাশিমবাজারটি কুড়িগ্রাম পাউবোর আওতায় হওয়ায় আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছি না।

এ ব্যাপারে জানতে কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলামকে একাধিবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। তাই তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা