kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

যমুনার পানি আবার বিপৎসিমার ওপরে, তৃতীয় দফার বন্যায় বিপর্যস্ত কৃষক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৮:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যমুনার পানি আবার বিপৎসিমার ওপরে, তৃতীয় দফার বন্যায় বিপর্যস্ত কৃষক

ফাইল ফটো

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পয়েন্টে যমুনার পানি বিপৎসিমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর যেকোনো সময় বিপত্সীমা অতিক্রম করবে সিরাজগঞ্জ সদর ও বগুড়ার ধুনট পয়েন্টের পানি। কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। এ ছাড়া তৃতীয় দফার এই বন্যায় এরই মধ্যে ডুবে গেছে কয়েক হাজার হেক্টর ফসলি জমি।

সিরাজগঞ্জ ও কাজিপুর প্রতিনিধি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি বেড়েছে ৩৯ সেন্টিমিটার। একই সময় কাজিপুর পয়েন্টে বেড়েছে ৩৫ সেন্টিমিটার। এ অবস্থায় যমুনাতীরবর্তী পাঁচটি উপজেলার মানুষের মধ্যে নতুন করে বন্যার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গতকাল বিকেলে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনার পানি বিপত্সীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ ছাড়া কাজিপুর পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপত্সীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগীয় উপসহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরো বাড়বে।

কাজিপুর উপজেলার নতুন মাইজবাড়ী চরের কৃষক শাহীনুর আলম বলেন, ‘দুই দফায় আমার চার বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়েছে। কৃষি অফিস থেকে আবার চারা এনে রোপণ করেছিলাম। সেটা তলিয়ে গেছে। এখন কী করব ভেবে পাচ্ছি না।’

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপত্সীমা ছুঁই ছুঁই করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শহড়াবাড়ী ঘাট পয়েন্টে ৫৬ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নদীর কূল উপচে চরের জমিতে সদ্য রোপণ করা রোপা আমন ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

উপজেলার বৈশাখী চরের কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, ‘কয়েক মাস আগের বন্যায় দুই বিঘা জমির পাট তলিয়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। সাত দিন আগে সেই জমিতে ধানের চারা লাগিয়েছি। কিন্তু আবার পানি বাড়ায় ধানগাছ তলিয়ে গেছে।’

কুড়িগ্রাম ও ভূরুঙ্গামারী প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামের সব নদ-নদীর পানি বেড়েছে। ধরলা নদীর পানি কিছুটা কমলেও বিপত্সীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার ও তিস্তার পানিও বাড়ছে। কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট, ফুলবাড়ী,  উলিপুরসহ ৯টি উপজেলার শতাধিক চর প্লাবিত হয়েছে। প্রায় চার হাজার হেক্টর আমনের ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের নলেয়া, কামাত আঙ্গারিয়া, চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুরের তিনটি ওয়ার্ড, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা, পাইকডাঙ্গা, সোনাহাট ব্রিজের পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণপাড়, ভরতের ছড়া, গনাইর কুটি, বলদিয়া ইউনিয়নের হেলডাঙ্গা, আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের বীর ধাউরারকুঠি, চর ধাউরারকুঠি, দক্ষিণ তিলাই ইউনিয়নের খোঁচাবাড়ী শালমারা ছাট গোপালপুর ও শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তর ও দক্ষিণ ধলডাঙ্গা শালজোড় গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে শত শত হেক্টর জমির ফসল।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা