kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

একাধিক পুলিশ-র‍্যাব সদস্য হত্যাকারী 'গাঙচিল' বাহিনীর প্রধান গ্রেপ্তার

অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২১:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একাধিক পুলিশ-র‍্যাব সদস্য হত্যাকারী 'গাঙচিল' বাহিনীর প্রধান গ্রেপ্তার

সাভারের গাঙচিল বাহিনীর প্রধান সালাউদ্দিনকে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪ এর একটি দল। এসময় তার দুই সহযোগিকেও গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার ভোরে সাভারের আমিনবাজারের সালেহপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র ও মাদকসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব সূত্র জানায়, ২০০০ সাল থেকে সাভারের আমিনবাজার ও তার আশপাশের এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে উত্থান হয় গাঙচিল বাহিনীর। বাহিনীটি বেশিরভাগ সময় পানিবেষ্টিত এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় এর নাম দেওয়া হয় গাঙচিল বাহিনী। ২০১৭ সালে সন্ত্রাসী আনার মারা গেলে গাঙচিল বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন তারই সহযোগী সালাউদ্দিন। তার নেতৃত্বে আবার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু হয়। এ বাহিনী মূলত আমিনবাজার, গাবতলী, ভাকুর্তা, কাউন্দিয়া, বেড়িবাধ, কেরানীগঞ্জ ও রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক কারবারি, ডাকাতি, খুন ইত্যাদি কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে সালাউদ্দিন ও তার দুই সহযোগিকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, দুই রাউন্ড গুলি, ১৯০ গ্রাম হেরোইন, ৫০০ পিস ইয়াবা এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা ২০০২ সালে সাভার থানার একজন উপপরিদর্শককে হত্যা, ২০০৭ সালে দুইজন র‌্যাব সদস্যকে হত্যা, দিয়াবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির অস্ত্রলুট এবং আমিনবাজার এলাকায় নৌ-টহল দলের অস্ত্রলুট এর সাথে জড়িত ছিল।

র‌্যাব আরো জানায়, বাহিনীটি তুরাগ ও বুড়িগঙ্গা নদীর বালুভর্তি ট্রলার ও ইটের কার্গোতে ডাকাতি এবং আমিন বাজার এলাকার শতাধিক ইটভাটা থেকে নিয়মিত চাঁদাবাজি করত। এ ছাড়াও এলাকার প্রভাবশালীদের টার্গেট করে গাংচিল বাহিনীর সদস্যরা মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে এবং চাঁদা না দিলে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে বলে জানা যায়। চাঁদাবাজি, খুন, ডাকাতি, মাদক কারবারি, ছিনতাইসহ তুরাগ আর বুড়িগঙ্গা নদীর দুই ধারে একক ছত্র অধিপত্য বিস্তার ছিল এই বাহিনীর প্রধান কাজ।

র‌্যাব-৪ এর সিনিয়র এএসপি জিয়াউর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা সবসময় নদীতে ও নদীর তীরবর্তী এলাকায় তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত এবং বেশিরভাগ সময় নদীপথে যাতাযাত করতো বলে স্বীকার করেছে। এ ছাড়া তাদের যাতাযাতের বাহন ছিল ডাবল ইঞ্জিন চালিত ট্রলার। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের পর আসামিদের সাভার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের বিরুদ্ধে পূর্বে খুন, অস্ত্র, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও মারামারির একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা