kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

যৌতুকের দাবি পূরণ না হওয়ায়

দরজা আটকে শিশুসহ শ্বশুরবাড়ির ৫ সদস্যকে কোপালেন বিদেশফেরত স্বপন

অনলাইন ডেস্ক   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১১:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দরজা আটকে শিশুসহ শ্বশুরবাড়ির ৫ সদস্যকে কোপালেন বিদেশফেরত স্বপন

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে শ্বশুর, শাশুড়ি, স্ত্রী, স্ত্রীর বড় বোন ও তার তিন বছরের এক শিশুকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। যৌতুকের টাকা না পেয়ে সিরাজ মিয়ার মেয়ের জামাই স্বপন মিয়া শ্বশুরবাড়ির একটি ঘরে সবাইকে আটকিয়ে দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। এলাকাবাসী ঘাতক স্বপনকে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের স্বল্প মহেড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- স্বল্প মহেড়া গ্রামের মৃত. হবি মিয়ার ছেলে সিরাজ মিয়া (৬০), তার স্ত্রী সুর্যভানু বেগম (৫২), মেয়ে শিলা আক্তার (১৮), বড় মেয়ে রাজিয়া বেগম (২৫) ও তার তিন বছরের শিশু কন্যা তাইবা। আহতদের টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে নেয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, মির্জাপুর উপজেলার স্বল্প মহেড়া গ্রামের সিরাজ মিয়ার মেয়ে শিলা আক্তারের সঙ্গে একই উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের পুর্ব গোড়ান গ্রামের আতোয়ার হোসেনের ছেলে স্বপন মিয়ার (২৫)  সঙ্গে চার মাস আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে স্বপন স্ত্রী শিলাকে মারপিট ও নানাভাবে নির্যাতন শুরু করেন। শিলা বিষয়টি বাবা-মাকে জানায়। স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত কয়েকদিন আগে শিলা বাবার বাড়ি স্বল্প মহেড়া গ্রামে চলে আসেন। শিলা গতকাল বুধবার ঘটনাটি মহেড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়াকে জানান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বপন চাকু ও দা নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে আসেন। রাত ৮টার দিকে বাড়ির লোকজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্বপন ঘরে তালা দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। পরে তাদের আর্তচিৎকারে আশপাশের বাড়ির লোকজন এসে দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে পাঠান। এসময় উত্তেজিত গ্রামবাসী স্বপনকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যঅল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। এদের মধ্যে সিরাজ মিয়া, শিলা ও রাজিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে মহেড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. বাদশা মিয়া জানিয়েছেন। 

স্বপন বিয়ের আগে মরিশাস ও সৌদি আরব থাকতেন। বাবা আতোয়ার হোসেনও কোরিয়া ও সৌদি আরব থাকতেন। ছোট ভাই ইমন সৌদি আরব প্রবাসী। স্বপন বিদেশ থেকে এসে বাবার সাথে মির্জাপুরের গোড়াই শিল্পাঞ্চল এলাকায় কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন এবং চারমাস আগে শিলাকে বিয়ে করেন। এর আগেও স্বপন আরেকটি বিয়ে করেছিলেন। প্রথম স্ত্রী ডিফোর্স দিয়ে চলে যাওয়ার পর প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখে স্বপন শিলাকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ বিষয়টি নিয়েও তাদের মধ্যে মাঝে মধ্যে ঝগড়া হতো বলে গোড়ান ও মহেড়া গ্রামের লোকজন জানিয়েছেন।

পুলিশ রাস্তা থেকে স্বপনকে ছেড়ে দিতে পারে সে আশঙ্কায় গ্রামবাসী তাদের প্রায় তিন ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। পরে থানার সিনিয়র কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে না ছাড়ার নিশ্চয়তা দিয়ে গ্রামবাসীকে শান্ত করে স্বপনকে থানায় নিয়ে আসেন।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সায়েদুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘাতক স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা