kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

রাঙামাটিতে ইউএনডিপি’র বিরুদ্ধে পচা খাদ্যসামগ্রী বিতরণের অভিযোগ

রাঙামাটি প্রতিনিধি   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:৪২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাঙামাটিতে ইউএনডিপি’র বিরুদ্ধে পচা খাদ্যসামগ্রী বিতরণের অভিযোগ

বিতরণ করা পচা খাদ্যসামগ্রী।

পার্বত্য জেলা রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) বিরুদ্ধে পচে যাওয়া খাদ্যসামগ্রী বিতরণের অভিযোগ ওঠেছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার দু’দিন ধরে উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ২ হাজার পরিবারের মাঝে এসব পচে যাওয়া খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে সংস্থাটি। পচা খাদ্যসামগ্রী বিতরণের অভিযোগ নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরাও। 

খাদ্যসামগ্রী গ্রহীতাদের অভিযোগ, বিতরণ করা এসব খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে আলু, পেঁয়াজ, চালসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীতে পচন ধরেছে। তাড়াতাড়ি করে সংস্থাটি এসব খাদ্যসামগ্রী দুস্থদের মাঝে বিতরণ করে নিজেদের দায় সারছে। তবে বিতরণ করা খাদ্যসামগ্রীর আলু ও পেঁয়াজ মোটেও খাবারের উপযোগী নয়। অন্যদিকে অনেকের চালও নষ্ট হয়েছে। তাই খাদ্য সহায়তা পেয়েও বিশেষভাবে লাভ হচ্ছে না দুস্থ জনগোষ্ঠীর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দুস্থ ও গরীব পরিবারের মাঝে মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু করে। তবে জেলার কাউখালী উপজেলায় প্রথম দিকে অভিযোগ ছাড়া সংস্থাটি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলেও দ্বিতীয় দফায় পঁচে যাওয়া খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে। বিগত দুইদিন ধরে উপজেলার ফটিকছড়ি, বেতবুনিয়া, কমলপতি ও ঘাগড়া ইউনিয়নের ২ হাজার পরিবারের এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। খাদ্যসামগ্রী মধ্যে রয়েছে- ১৫ কেজি চাল, ২ কেজি আলু, ২ কেজি পেঁয়াজ, ১ কেজি মসুর ডাল, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ২ কেজি লবণসহ সাত ধরনের শাক-সবজির বীজ ও ৫টি মাস্ক।

কাউখালী উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, আজ বৃহস্পতিবার ঘাগড়া ইউনিয়নের ১, ২, ৪, ৫, ৬ এই ৫টি ওয়ার্ডের ২৬০টি পরিবারের মাঝে ইউএনডিপি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে। এর মধ্যে যারা খাদ্য সহায়তা পেয়েছে তাদের প্রায় সবারই আলু ও পেঁয়াজ সম্পূর্ণ পচে গেছে। বেশিরভাগ মানুষ যেখানে বিতরণ করা হয়েছে সেখানে আলু, পেঁয়াজ ফেলে গেছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তারা জানায়, ২০ থেকে ২৫ দিন আগে প্যাকেট করার কারণে এসব খাদ্যসামগ্রী পচে গেছে।

খাদ্যপণ্য নিতে আসা স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিনামূল্যে খাদ্যসামগ্রী দিবে জেনে আমরা এসেছি। কিন্তু যেসব দিয়েছে তান মধ্যে আলু, পেঁয়াজ সব পচে গেছে। বেশিরভাগ মানুষের চালও নষ্ট হয়েছে। যেগুলো রান্না করা যাবে না। এত কষ্ট করে এলাম ত্রাণ নিতে অথচ মূল পণ্যগুলোই পচে গেছে। তারা (ইউএনডিপি) জেনে-শোনে আমাদের এসব পচা খাদ্যসামগ্রী দিয়েছেন। 

কলমপতি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আমাদের ইউনিয়নে প্রায় সাড়ে পাঁচশ মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে। সবার পেঁয়াজ ও আলু সম্পূর্ণ পচা। এটা কোনোভাবেই খাবার উপযোগি নয়। কেনো তারা এটা পরীক্ষা না করেই বিতরণ করল বুঝতে পারছি না। বিষয়টি আমরা তাদের জানিয়েছি।  

ইউএনডিপি’র যে প্রকল্পের উদ্যোগে এই সহায়তা দেয়া হচ্ছে সেই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্পের কাউখালী উপজেলা সমন্বয়ক মিঠুন মারমা জানিয়েছেন, বিতরণ করা খাদ্যসামগ্রী মূলত বাঘাইছড়ির উপজেলার জন্য বরাদ্দ ছিল। কিন্তু বাঘাইছড়িতে বিতরণের পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় কাউখালী উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। খাদ্যসামগ্রীগুলো প্যাকেটিং করা হয়েছে আরো ২০ থেকে ২৫ দিন আগে। কিন্তু তালিকা তৈরির কাজ করতে সময়ক্ষেপণ হওয়ায় বিতরণ করতে করতে কিছু খাদ্যসামগ্রী পচে গেছে। তবুও আমরা বলেছি, যেগুলো পচে গেছে সেগুলো সংরক্ষণে রাখতে। পরে আমরা এসব পচে যাওয়া খাদ্যসামগ্রী পরিবর্তন কবে দেব।

কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শতরূপা তালুকদার জানিয়েছেন, ইউএনডিপির খাদ্য সামগ্রীর বিতরণ নিয়ে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। আলু, পেঁয়াজসহ বেশ কিছু খাদ্যসামগ্রী পচে গেছে যা আমি নিজেও দেখেছি। এ বিষয়ে তারা আমাদের কাছে বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তারা আশ্বাস দিয়েছেন, যাদের খাদ্যসামগ্রী পচা পড়েছে তাদের সেসব পণ্য বদলে দেবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা