kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

বাউরা পাবলিক দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, তবু বহাল তবিয়তে

পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২২:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, তবু বহাল তবিয়তে

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের বাউরা পাবলিক দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজার রহমানের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে। একাধিক অভিযোগ তদন্তের সত্যতা মিললেও ঊর্ধ্বতন খুঁটির জোরে তিনি রয়েছেন বহাল তবিয়তে।

জানা গেছে, আজিজার রহমান ১৯৯০ সালের ১ আগস্ট সহকারী শিক্ষক ও ২০১১ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিদ্যালয়ে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডর করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি বিদ্যালয়ের আয়- ব্যয়ের গড়মিল দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ, ভুয়া পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ, ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষার্থীকে অকৃতকার্য করা, রাগের বশবর্তী হয়ে শিক্ষার্থীকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে তাঁর পছন্দের লোককে দিয়ে কমিটি গঠন করা, একই ব্যক্তিকে দিয়ে বার বার অ্যাডহক ও ম্যানেজিং কমিটি গঠনসহ অসংখ্য অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর প্রধান শিক্ষক আজিজার রহমানের অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী মৌলভী শিক্ষক হাফিজুর রহমান ও দাতা সদস্য প্রার্থী আবুল হোসেন গং এবং একাধিক অভিভাবক পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন। অভিযোগ তদন্তে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল করিম ১৩ নভেম্বর ২০১৮ সালে তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল গঠন করে দেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের প্রতি বছরে বার্ষিক আয় ২০ লক্ষাধিক টাকা হলেও বিদ্যালয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মাত্র ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা জমা দেখান তিনি। ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক কর্তৃক প্রদর্শিত হিসেবে ২৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকা বেশি আয় হলেও আয় কম দেখিয়ে টাকা আত্মসাত করেছেন তিনি। তদন্ত দল টাকা আদায়ের রশিদ বইয়ের মুড়িও খুঁজে পায়নি। বিদ্যালয়ের পুকুর ও দোকানপাট থেকে আদায়কৃত টাকার হিসাবও পায়নি। ২০১৮ সালে ৫ লাখ ও ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে সাবসিডিয়ারি পরীক্ষা বাবদ শিক্ষার্থীর নিকট থেকে নেওয়া টাকা অদ্যাবধি বিদ্যালয় অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়নি। ২০১৫ সালে পুলিশের নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ও তিন মাস জেল হাজতে থাকা আসামি মতিয়ার রহমানকে ২০১৮ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দিতে দুই জন ভুয়া পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক অর্থের বিনিময়ে মতিয়ার রহমানকে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেন। কিন্তু ওই নিয়োগ বহাল করতে পারেনি। বর্তমানে মতিয়ার রহমান সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের কোনো নিয়ম নীতি তোয়াক্কা করেন না। বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়, আদায় রশিদ, বিল-ভাউচারের কোনো মিল নেই। তিনি শুধু টাকাকে প্রাধান্য দেন। তদন্ত কমিটি প্রধান শিক্ষককে দোষী সাব্যস্ত করেছে। 

পাটগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমি কিছু জানি না। তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুন নাহারের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা