kalerkantho

শুক্রবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৭ সফর ১৪৪২

বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো- এভাবেই কেটে গেছে ৩৩ বছর

রোকনুজ্জামান মানু, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৪:২০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো- এভাবেই কেটে গেছে ৩৩ বছর

বর্ষা মৌসুমে পারাপারে নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো। এভাবেই কেটে গেছে ৩৩ বছর। একাধিকবার ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, তবুও হয়নি একটি ব্রিজ। ভোটের আগে জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও, নির্বাচিত হওয়ার পর তা বেমালুম ভুলে যান। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন দু'পারের বাসিন্দারা। 

সরেজমিনে জেলার উলিপুর উপজেলার ধামশ্রেনী ইউনিয়নের নাওড়া ভাঙা ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় মানুষজন বর্ষা মৌসুমের জন্য নিজেদের টাকায় ছোট একটি ডিঙি নৌকা তৈরি করে ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করছেন। ছোট এ ডিঙি নৌকায় পারাপার করতে গিয়ে প্রায় পড়তে হচ্ছে নানা বিড়ম্বনায়। এভাবেই দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে দু'পারের প্রায় ৮ হাজার মানুষকে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে। 

স্থানীয়রা জানান, ১৯৮৮ সালে বন্যার পানির তোড়ে ব্রিজটি ভেঙে গেলে আজো নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। তাদের অভিযোগ, ব্রিজটি নির্মাণের সময় ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় নির্মাণের বছরেই বন্যার পানির তোড়ে ব্রিজটি দেবে যায়, কিন্ত সেখানে আর ব্রিজ নিমার্ণে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি আর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ওই এলাকার নাওড়া, মাঝিপাড়া, খ্যানপাড়া, বিষ্ণুবল্লভ, মদনারপাড়া গ্রামের প্রায় ৮ হাজার মানুষসহ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদরাসার শিক্ষার্থী।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই নদীটির সাথে ব্রহ্মপুত্র মূল নদীর সংযোগ থাকায় বছরের বেশির ভাগ সময় পানি থাকে। ফলে সে সময় যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ডিঙি নৌকা। শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাকো। নদীর ওপারে আবাদি জমি হওয়ায়, প্রায় সময় কৃষি উপকরণ নিয়ে যেতে হয়। যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় কয়েক কিলোমিটার ঘুরে কৃষকরা তাদের কৃষি যন্ত্রপাতি নিয়ে জমিতে যান। দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় মানুষজন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ধামশ্রেণী ইউপি চেয়ারম্যান রাখিবুল হাসান সরদার বলেন, ব্রিজটি আমার বাড়ির পেছনে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানিয়েছি, তবুও কোনো কাজ হয়নি।  

উপজেলা প্রকৌশলী কে কে এম সাদেকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে আমি সরেজমিন পরিদর্শন করেছি, সেখানে মানুষজন পারাপার হতে নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। যতদ্রুত সম্ভব ব্রিজটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা