kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

বর্ষায় তরমুজ চাষ, কম খরচে বড় লাভের স্বপ্ন গলাচিপার জাহাঙ্গীরের

সাইমুন রহমান এলিট, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১২:৪২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বর্ষায় তরমুজ চাষ, কম খরচে বড় লাভের স্বপ্ন গলাচিপার জাহাঙ্গীরের

গলাচিপার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের কৃষক জাহাঙ্গীর ফরাজি। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ধরে কৃষিকাজে যুক্ত রয়েছেন। এর আগে কখনোই বর্ষা মৌসুমে তরমুজ চাষ করেননি। গত বছর ভগ্নিপতি শখের বসে বর্ষা মৌসুমে শসা গাছের মাচার সাথে ১৭টি তরমুজ বীজ বপন করেন। ওই সময় ১৭টি গাছে ৭০টি তরমুজ হয়। এ দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের ২০ শতাংশ জায়গায় বর্ষা মৌসুমে তরমুজ চাষ করেন। এতে মাত্র ২৫ হাজার টাকা খরচ করে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কমপক্ষে ৩ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশা করেন। বর্ষায় তরমুজ চাষ করে সফলতা পেয়েছে কৃষক জাহাঙ্গীর। ফলন ভালো হওয়ায় অন্য কৃষকদের মধ্যেও আগ্রহ বেড়েছে।

সরেজমিনে গলাচিপার রতনদীতালতলী ইউনিয়নের গ্রামর্দ্দন গ্রামে জাহাঙ্গীর ফরাজির ক্ষেতে গিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

তরমুজ চাষি মো. জাহাঙ্গীর ফরাজি (৪৫) জানান, গত বছর ভগ্নিপতি জাহাঙ্গীর মুন্সি তার বাড়িতে শসার জন্য প্রস্তুত করা মাটির বেদিতে ১৭টি তরমুজ বীজ বপন করেন। ওই সময় ফলন ভালো দেখে নিজে বর্ষা মৌসুমে তরমুজ চাষের পরিকল্পনা করেন। এর ফাঁকে খুলনায় মাছের পোনা কিনতে গেলে সেখানে কৃষকদের সাথে কথা বলেন। তাদের কাছে জেনে আসেন বর্ষা মৌসুমে তরমুজ চাষের পদ্ধতি। এর পর এ বছর কোরবানীর পাঁচদিন আগে নিজের বাড়ি গ্রামর্দ্দনে ২০ শতাংশ জায়গায় মাটির বেদি করেন। সেখানে মাচা করে তরমুজ বীজ বপন করেন। নিয়মিত সার কীটনাশক ব্যবহার করেন। কিন্তু অন্য মৌসুমে যে পরিমাণ সার ও কীটনাশক দিতে হয় এবার তার চেয়ে অনেক কম ব্যবহার করতে হয়েছে। এতে ফলনও ভালো হয়েছে। 

মাটির দশটি বেডে মাচা করে দুই পাশে মাচা করে দিয়েছেন। গ্রীষ্ম মৌসুমে শ্রমিক ও সেচ ব্যবস্থায় এই ২০ শতাংশ জমিতে প্রায় লাখ টাকা খরচ হতো। আর বর্ষা মৌসুমে মাত্র ২৫ হাজার টাকার মধ্যেই সব হয়ে গেছে। আবার দামও পাওয়া যায় বেশি। বর্ষায় তরমুজ চাষ করতে গেলে নিজেকে একটু সতর্ক থাকতে হয়। কারণ সঠিক সময় সার ব্যবস্থাপনা, মাচা তৈরি করা, ডগা কাটা, ডগা মাচায় উঠিয়ে দিতে হয়। মাচায় উঠিয়ে দেওয়ার পর জাল পরিয়ে দেওয়া হয়। এর পর ফলন আসলে তরমুজ ব্যাগিং করতে হয়। জাহাঙ্গীরের তরমুজ প্রতিটি গড়ে ৫ থেকে ৬ কেজি ওজনের হয়েছে। দুই সপ্তাহ পরে ৮ থেকে ৯ কেজি ওজনের হবে। তখন বিক্রির উপযোগী হবে।

শ্রমিক জসিম ফরাজী বলেন, বর্ষায় তরমুজ আমাদের এলাকায় জাহাঙ্গীর চাচা-ই এই প্রথম চাষ করছে। আমরা ৭ জন তার তরমুজ ক্ষেতে নিয়মিত কাম করছি। প্রতিবছর এই সময় আমাদের কোনো কাম থাহে না। এ বছর তার লগে কাম কইররা আমরা ভালো আছি। বেকার সময় কাডান লাগছে না।
 
এ বিষয় জাহাঙ্গীল ফরাজী বলেন, বর্ষা মৌসুমে তরমুজ চাষে খরচ কম লাভ বেশি। আর এসব তরমুজের চাহিদা ঢাকাতে বেশি। আমি এক সপ্তাহের মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ৯০০ তরমুজ বিক্রি করতে পারবো। তাতে কমপক্ষে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা বিক্রি হবে। 

তিনি আরো বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে আমি আবার এক একর জমিতে পাঁচ হাজার তরমুজ চারা বপন করবো। যা আগামী তিন মাসের মধ্যে ফলন দিবে। যার অল্প জায়গা আছে সে মাচা পদ্ধিতে তরমুজ চাষ করতে পারে। অল্প পুঁজিতে লাভ বেশি হবে।

এ প্রসঙ্গে গলাচিপা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এআরএসএম সাইফুল্লাহ বলেন, গলাচিপায় জাহাঙ্গীর ফরাজি ও নলুয়াবাগী এলাকায় আলতাফ হোসেন বর্ষা মৌসুমে তরমুজ চাষ করছেন। দুজনেরই ফলন ভালো হয়েছে। আগামী বছর বর্ষা মৌসুমে তরমুজ চাষীর সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করছি। 

তিনি আরো বলেন, বার মাসই তরমুজ চাষ করা যায়। বর্ষা মৌসুমে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করতে প্রথম বছর একটু বেশি খরচ হয়। কারণ প্রথম বছর মাটির বেদি, মাচায় তৈরি করতে খরচ বেশি। পরের বছর তা খরচ কমে যায়। লাভ ভালো হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা