kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কাজিপুরে ধান থেকে চাল করতে সরকারি অর্থের নয়-ছয়

কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৯:৫২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কাজিপুরে ধান থেকে চাল করতে সরকারি অর্থের নয়-ছয়

ফাইল ফটো

রীতিমতো শুভংকরের ফাঁকি। চলতি মৌসুমে সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে বাজারে দাম বেশি থাকায় ধান সংগ্রহ অভিযান ব্যর্থ হতে বসেছে। কিন্তু কাগজে-কলমে ধান সংগ্রহ ঠিকই দেখানো হচ্ছে। আর সেই কাগজে-কলমে দেখানো ধান থেকে চাল করতে উপজেলার ৩০ জন মিলারের নামে বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। প্রতিটন ধান থেকে চালে রূপান্তরের জন্য খরচ দেখানো হয়েছে এক হাজার পঞ্চাশ টাকা করে। অথচ বাস্তবতা হচ্ছে, মিলারদের নাম করে উপজেলা গুদাম কর্মকর্তা এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাজার থেকে চাল কিনে গুদামে ভরছেন। মাঝখান থেকে টনপ্রতি খরচের এক হাজার পঞ্চাশ টাকা করে তাঁরা নিজেদের পকেটে ভরছেন। চলতি বছর সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের চিত্র এটি।

কাজিপুর খাদ্য কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় দুই হাজার ৪৩৫ জন কৃষকের কাছ থেকে এক মেট্রিক টন করে ধান ও ৩০ জন মিলারের কাছ থেকে এক হাজার ৮০৩ মে. টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মিলার জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত কৃষকদের কাছ থেকে মাত্র ৩৬১ মে. টন ধান সংগ্রহ করা গেছে।

অথচ গুদাম কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৫৬৮ মে. টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। অর্থাৎ এক হাজার ২০৭ মে. টন ধান সংগ্রহ কাগজে-কলমে দেখিয়ে বাজার থেকে চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। টনপ্রতি ধান থেকে চাল করার খরচ হিসেবে বরাদ্দকৃত টাকা ওই দুই কর্মকর্তার পকেটে গিয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাকি ধান এভাবে সংগ্রহ ও চাল করার খরচ দেখালে তাদের পকেটে বিপুল অঙ্কের সরকারি টাকা চলে যাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুস সোবহানকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার গুদাম কর্মকর্তার মেঘাই অফিসে গিয়ে তাকেও পাওয়া যায়নি। এ সময় সহকারি উপ খাদ্য নিয়ন্ত্রক সাইফুল ইসলাম এ প্রতিনিধিকে কোনো ধরনের তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে পকেট থেকে টাকা বের করে এ প্রতিনিধিকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। মুঠোফোনে গুদাম কর্মকর্তা ইয়াছির আরাফাত জানান, 'ব্যক্তিগত কাজে অফিসের বাইরে আছি। ধান সংগ্রহ নিয়ম মেনেই করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম হয়নি।’ এ কথা বলার পর তিনি এ প্রতিনিধিকে তাঁর অফিসে পরে দেখা করতে বলেন।

কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, 'এ বিষয়ে আমি এখনো কিছু জানি না। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা