kalerkantho

শুক্রবার । ৭ কার্তিক ১৪২৭। ২৩ অক্টোবর ২০২০। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

গোপালগঞ্জে বন্যাদুর্গতদের মধ্যে নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ করছে জনস্বাস্থ্য

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৪ আগস্ট, ২০২০ ১৫:১২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গোপালগঞ্জে বন্যাদুর্গতদের মধ্যে নিরাপদ খাবার পানি 
সরবরাহ করছে জনস্বাস্থ্য

বন্যাদুর্গত মানুষদের মধ্যে নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ করছে গোপালগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। বন্যার কারণে যেসব এলাকায় বসতঘর ও নলকূপ তলিয়ে গেছে, সেসব পরিবারকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পানির সমস্যা দেখা দেওয়ায় গ্রামে গ্রামে গিয়ে গাড়িতে করে নিরাপদ খাবার পানি সরবাহ করে চলেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

আজ সোমবার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নিজড়া ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত প্রায় এক হাজার পরিবারের মধ্যে  নিরাপদ খাবার পানি সরবাহ করা হয়। খাবার পানি সরবরাহকালে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মানোয়ার হোসেন, সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা, নিজড়া ইউপি চেয়ারম্যান সরদার আজিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্মকর্তা রতন কুমার সাহা জানান, প্রতিদিন সকালে আমরা আমাদের ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নিয়ে বন্যাদুর্গত এলাকায় গিয়ে একটি নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট শুরু করি। এরপর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে বন্যাদুর্গতরা তাদের পানির পাত্র নিয়ে আমাদের কাছে এসে খাবার পানি নিয়ে যায়।

এই কর্মকর্তা আরো জানান, আমরা আমাদের ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে প্রতি ঘণ্টায় ৬০০ লিটার পানি ফিল্টারিং করি। দৈনিক ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা আমরা বন্যাদুর্গত প্রায় এক হাজারেরও বেশি পরিবারের মধ্যে খাবার পানি সরবরাহ করি। ইতিমধ্যে সদর উপজেলার সর্বত্র এই সেবা প্রদান করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার থেকে কাশিয়ানী উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকায় খাবার পানি সরবরাহের এই সেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে।

গোপালগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক চন্দ্র তালুকদার বলেছেন, গোপালগঞ্জ জেলার ৪৮টি ইউনিয়নের ৩২৫টি গ্রাম বন্যাকবলিত হওয়ায় জেলার বিভিন্ন স্থানে খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যাদুর্গত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমরা আমাদের ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট গাড়ি পাঠিয়ে সেখানকার পানি ফিল্টারিং করে বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে সরবরাহ করি। আমাদের এই নিরাপদ খাবার পানি প্রদানের সেবা জেলার সর্বত্র চলমান থাকবে।

উল্লেখ্য, গত জুলাই মাস থেকে গোপালগঞ্জের পাঁচটি উপজেলার ৪৮টি ইউনিয়নের প্রায় ৩২৫টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব গ্রামের ১২০টি পরিবার বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে। পনিবন্দি রয়েছে প্রায় ১৯ হাজার মানুষ। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গত মানুষের মধ্যে নগদ সাত লাখ ১০ হাজার টাকা ও ২১০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা