kalerkantho

মঙ্গলবার । ১ আষাঢ় ১৪২৮। ১৫ জুন ২০২১। ৩ জিলকদ ১৪৪২

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও ফিরছেন শিক্ষার্থীরা

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি   

২৩ আগস্ট, ২০২০ ১৪:৪২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও ফিরছেন শিক্ষার্থীরা

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগ মিয়ার বাড়ি বগুড়ার ধুনট উপজেলায়। চলমান করোনাভাইরাস দুর্যোগ শুরুর পর থেকে নিজ এলাকাতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। টিউশনি করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালানো সোহাগকে এই সময়টা আর্থিক টানাপোড়নের মধ্যেই কাটাতে হয়েছে। কোনোপ্রকার উপার্জন না থাকলেও নিয়মিত দিতে হয়েছে মেস ভাড়া। নোয়াখালী পৌর শহরের বড় মসজিদ মোড় এলাকার এক জেএসসি পরীক্ষার্থীকে পড়াতেন তিনি। গেল জুলাইয়ের শেষে শিক্ষার্থীর পরিবার থেকে পড়ানোর জন্য তাঁকে একপ্রকার চাপ দেওয়া হচ্ছিল। আর্থিক সঙ্কট আর টিউশনি চলে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকটাই বাধ্য হয়ে ক্যাম্পাস খোলার আগেই নোয়াখালী চলে এসেছেন তিনি।

করোনা উপেক্ষা করে একই কারণে রাজবাড়ীর পাংশা থেকে নোয়াখালী চলে এসেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন চৌধুরী। তিনি জানান, লকডাউনের কারণে পরিবারের উপার্জন নেই। আর্থিক টানাপোড়নের কারণে নিজের ব্যক্তিগত খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে তাঁর। তা ছাড়া, উপার্জন না থাকলেও নিয়মিত দিতে হচ্ছে মেস ভাড়া। মেস ভাড়া আর ব্যক্তিগত খরচ চালাতে হিমশিম খাওয়ায় করোনা দুর্যোগেই টিউশনি করতে নোয়াখালী চলে এসেছেন বলে জানান তিনি। শুধু সোহাগ আর সুমন নয়, তাঁদের মতো অনেক শিক্ষার্থী একই কারণে নোয়াখালী ফিরেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নোয়াখালীতে করোনা সংক্রমণ বাড়লেও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন জেলা হতে নোয়াখালী ফিরেছেন। অধিকাংশ শিক্ষার্থী টিউশনি করে পড়াশোনার খরচ চালান। অনেকে আবার টিউশনি করিয়ে নিজ খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকেও আর্থিক সাপোর্ট দেন।

করোনা দুর্যোগে লকডাউনের কারণে তারা পড়ছেন চরম বিপাকে। এদিকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অনলাইন ক্লাসের জন্য ইন্টারনেট ক্রয়ের সামর্থ্য নেই বলেও জানা যায়। লকডাউনে পরিবারের উপার্জন কমে যাওয়ায় পরিবার থেকে সাপোর্টও পাচ্ছেন না তাঁরা।

এ মাসের শুরুর দিকে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থেকে নোয়াখালী এসেছেন ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী  মোহাম্মদ বাছির উদ্দিন। তিনি বলেন, লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন যাবত কোনো উপার্জন নেই। আগে টিউশনি করে নিজের হাত খরচ চালাতাম। করোনার কারণে পরিবারের অবস্থাও তেমন ভালো নেই। টিউশনি থেকেও ফোন দেওয়া হচ্ছিল। সবদিক বিবেচনা করে করোনা ভীতি কাটিয়েই নোয়াখালী ফিরেছি।

এ মাসে কুমিল্লার বড়ুরা থেকে নোয়াখালী ফিরেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী টিটু। তিনি জানান, স্টুডেন্টের বাসা থেকে বারবার ফোন দেয়া হচ্ছিল। স্টুডেন্টের পড়াশোনা ব্যাঘাত ঘটছে বলে আমাকে নোয়াখালী ফিরতে বলে। অনেকটাই বাধ্য হয়েই নোয়াখালী ফিরছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে টানা পাঁচ মাস বাসায় থেকে বিরক্তিবোধ কাজ করায় একঘেয়েমি কাটাতে অনেক শিক্ষার্থী চলে এসেছেন নোয়াখালী। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো বন্ধ থাকায় শহর এবং ক্যাম্পাসের আশপাশের মেসে অবস্থান করছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোসাদ্দেক হোসেন। উত্তরবঙ্গের রংপুরে তাঁর বাড়ি। টিউশনি কিংবা কোনো কাজ না থাকলেও তিনি নোয়াখালী চলে এসেছেন। দীর্ঘ সময় বাড়িতে থাকার কারণে বিরক্তিবোধ কাজ করছিল তাঁর। তাই তিনি নোয়াখালী ফিরেছেন বলে জানান।

ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব মাহমুদ রানা। কুমিল্লায় তাঁর বাড়ি। ক্যাম্পাসকে খুব বেশি মিস করছিলেন তিনি। আর তাই শুধু ঘুরাঘুরির জন্য নোয়াখালী এসেছেন বলে জানান তিনি।

বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বাড়ি প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রামে হওয়ায় ইন্টারনেটের অবস্থা নড়বড়ে। গ্রাম থেকে দূরের বাজারে গিয়ে ক্লাস করতে হয়। ইন্টারনেট কানেকশন কখনো টুজি আবার কখনো থ্রিজি হয়। আবার কখনো কানেকশনই চলে যায়। গ্রাম হতে  বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত অনলাইনে ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, ক্লাস টেস্ট এসবে অংশ নিতে না পারায় নোয়াখালী চলে এসেছেন বলে জানান তাঁরা।



সাতদিনের সেরা