kalerkantho

রবিবার। ৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ২ সফর ১৪৪২

জলমহাল নিয়ে সংঘর্ষে জাহির হত্যা

নবীগঞ্জের দেবপাড়ায় আতঙ্কে রাত কাটে নারী-শিশুদের

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৪ আগস্ট, ২০২০ ১৭:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নবীগঞ্জের দেবপাড়ায় আতঙ্কে রাত কাটে নারী-শিশুদের

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের বাঁশডর (দেবপাড়া) গ্রামে জাহির হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ওই গ্রামে ত্রাসের রাজত্ব চলছে। মামলার আসামিদের বাড়িতে দিনে চুরি, লুটপাট, ভাঙচুর ও নির্যাতন চলছে। এসব বিষয়ের কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না ওই গ্রামের পুরুষশূন্য বাড়ির লোকজন। ভয়ে আতঙ্কে রাত কাটায় পুরুষশূন্য বাড়িগুলোর মহিলা ও শিশুরা। থানায় অভিযোগ করতে আসলে নেওয়া হচ্ছেনা মামলা কিংবা অভিযোগ।

এমন ঘটনার র্বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নির্যাতিত পরিবারের অসহায় মহিলা শিশুরা। নারী-শিশুদের নিরাপত্তা দিতেও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নেই বলে ভুক্তভোগীরা জানান। ওই গ্রামের প্রভাবশালী এক পুলিশ কর্মকর্তার আত্মীয় স্বজনের ছত্রছায়ায় এবং তাদের দাবি পুলিশ কর্মকর্তার মদদে এমন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই জলমহাল বিরোধের জের ধরে সফিক মিয়া ও রাজা মিয়ার পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাঁশডর খেলার মাঠে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। গ্রামবাসী জানতে পারেন জাহির আলী (৭৫) নামের এক বৃদ্ধ প্রতিপক্ষের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলে মারা যান। এ ঘটনায় বাঁশডর গ্রামের প্রায় ৯৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ছেলে আরশ আলী।

সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ বাউসা ইউনিয়নের বাঁশডর (দেবপাড়া) গ্রামে জলমহাল নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় বিরোধের মীমাংসা করা হয়। উভয় পক্ষের লোকজন শালিসের রায় না মেনে গত ১৬ জুলাই জলমহাল দখল নিয়ে সফিক মিয়া ও রাজা মিয়ার লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে জাহির আলী নিহত হন। হত্যাকাণ্ডের পর পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে বাঁশডর গ্রাম। এ সুযোগে নিহতের পক্ষের লোকজন আসামিপক্ষের বাড়ি-ঘরে হামলা, লুটপাট ও বিভিন্ন নির্যাতন চালাচ্ছে। দোকানের মালামাল, নগদ টাকা, ফার্মেসির ওষুধ, স্বর্ণলংকার, ফার্নিচার, টিভি, ফ্রিজ, দশটি ফিসারির মাছ, ৪০টি গরু, ১২টি নৌকা লুটপাট করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এর মধ্যে লুটপাটকৃত চারটি নৌকা সোনাপুর বিক্রিকালে জনতার সন্দেহ হলে আটক করেন। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সত্যজিত দাশের জিম্মায় রাখা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে নিহত জাহির আলীর শিশু কন্যা মারিফুল বেগম (৮) রহস্যজনক খুন হন। ওই খুনের ঘটনায় দুটি মামলা হয়। কিন্তু হত্যাকাণ্ড প্রমাণ না করতে পারায় আসামিরা খালাস পান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা