kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

পাল আমলের দীঘি, এখন দখল আর দূষণে

নজরুল ইসলাম, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল)    

১৪ আগস্ট, ২০২০ ১০:২৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পাল আমলের দীঘি, এখন দখল আর দূষণে

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার সাগরদীঘি ইউনিয়নের লোহানী গ্রাম। উপজেলা সদর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের এ গ্রামেই অবস্থিত দীঘিটি।

বুকভরা গভীর জল নিয়ে পাল বংশের আমলের নানা ঐতিহ্য ও কিংবদন্তি নিয়ে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সাগরদীঘি নামের দীঘিটি।

পর্যটন সম্ভাবনাময় সাগরদীঘির সৌন্দর্য এখন ধ্বংসের মুখে। দুই পাড় দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ, দোকান ও মুরগির খামার স্থাপন করে দীঘির পাড় দখল করে সৌন্দর্য নষ্ট করা হয়েছে। অপরদিকে মাছ চাষের কারণে মাছের খাবার হিসেবে দীঘির পানিতে মুরগির বিষ্ঠা ও মুরগির খামারের বর্জ্য ফেলায় এর পানি ও পরিবেশ দুটিই নষ্ট হচ্ছে।

দীঘির চারপাশের পাড় দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে ছোট বড় ২০টির মতো মুরগির খামার। এর মধ্যে ব্যবসায়ী খোকন মিয়ারই রয়েছে এক ডজনেরও বেশি মুরগির খামারের ঘর। এ ছাড়া লুত্ফর মিয়াসহ আরো অনেকে পাড় দখল করে মুরগির খামার করেছেন। এসব মুরগির খামারের বর্জ্য সরাসরি ফেলা হচ্ছে দীঘির স্বচ্ছ পানিতে। এতে পানি বিবর্ণ হয়ে পানি ও পরিবেশ নষ্ট করছে। এলাকার প্রভাবশালী একটি মহল স্থানীয় প্রশাসন থেকে লিজ হয়ে মাছ চাষ করায় পাহাড়ি  এলাকার একমাত্র জলাধারটির পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

দীঘি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দীঘির বিভিন্ন পাড় দখল করে ৩০টির বেশি বসতবাড়ি এবং ১০টির মতো দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায়  দীঘির পাড় নানাভাবে দখল হয়েছে।

দীঘিটি লিজ দেওয়ার মাছ চাষিরা মাছের খাবার হিসেবে দীঘিতে প্রয়োগ করছে মুরগির বিষ্ঠা ও বিভিন্ন রাসায়নিক। এর প্রভাবে দীঘিটি এর প্রাণ হারাচ্ছে। ভরে যাচ্ছে এর তলদেশ। এসব কারণে দীঘিটির পাড়ে দাঁড়িয়ে বিশুদ্ধ বাতাস আর প্রশান্তির নিঃশাস নেওয়ার কোনো উপায় নেই। দীঘির পাড় ঘেষে চলতে হয় মুখে রুমাল দিয়ে না হয় নাক বন্ধ করে। পাড়গুলো কেবল দখলই হয়নি বরং কোনো কোনো স্থান কেটে, গর্ত আর বিকৃত করে ফেলা হয়েছে জলাধারটি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। শিগগির দীঘির পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রাচীন আমলের এই দীঘিটিকে কেন্দ্র করে একটি পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা