kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

প্রায় সব মন্ত্রণালয়ের সিলমোহর-লেটার হেড বানিয়ে নেন শাকিল

অনলাইন ডেস্ক   

১৪ আগস্ট, ২০২০ ১০:১৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রায় সব মন্ত্রণালয়ের সিলমোহর-লেটার হেড বানিয়ে নেন শাকিল

জালিয়াতির অন্যতম এই কারিগর হলেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি রাব্বি শাকিল ওরফে ডি জে শাকিল (৩২)। কখনো প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কখনো সাংবাদিক-সম্পাদকের পরিচয়ে লোকজনকে প্রতারণা ও জালিয়াতির ফাঁদে আটকাতে চালিয়েছেন ব্যাপক প্রচারণা। অনেকগুলো অনলাইন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও লোকজন তাঁর নাম শুনেছে। মানুষের চোখে ভেলকি লাগাতে দেশের প্রায় সব মন্ত্রণালয়ের সিলমোহর, লেটার হেড বানিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।

সহজে দেশি-বিদেশি ব্যাংক থেকে ঋণ পাইয়ে দেওয়া, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি—সব টোপই ব্যবহার করেছেন তিনি। বলেছেন, ১৫টি দেশের ৩২টি ব্যাংকের স্বীকৃত ১১৫টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর রয়েছে চুক্তি। দেশে বেকারত্ব দূর ও উদ্যোক্তা তৈরি করতে তিনি দিচ্ছেন স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা। সর্বনিম্ন ২০ লাখ থেকে এক হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগের ঘোষণা দিয়ে তিনি খোলেন ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক লোন সার্ভিস (আইবিএল) সেন্টার নামের প্রতিষ্ঠান। সেনাবাহিনীতে চাকরির নিয়োগপত্রও পাওয়া গেছে তাঁর দপ্তরে। ঋণ পাওয়ার প্রসেসিং খরচ ও অগ্রিম কমিশন, চাকরির বিনিময়ে আগাম টাকা—এসব করে তিনি শত শত ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।

তবে তাঁর ভুয়া পরিচয়ের বাইরে আসল পরিচয়ও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। জালিয়াতির অন্যতম এই কারিগর হলেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি রাব্বি শাকিল ওরফে ডি জে শাকিল (৩২)। বাড়ি উপজেলার খাঁপাড়ায়। গত বুধবার রাতে বগুড়া পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট দুই সহযোগীসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। সহযোগী দুজন হলেন তাঁর প্রতিষ্ঠানের আইটি এক্সপার্ট, একই উপজেলার কুসুন্দি গ্রামের হুমায়ন কবির (২৮) এবং ম্যানেজার নওগাঁর মান্দার গাড়িক্ষেত্র গ্রামের হারুনর রশিদ সাইফুল (২৬)। তাড়াশ পৌরসভার গেটের পাশেই শাকিলের সুদৃশ্য অফিস। সেখান থেকেই প্রতারণার নেটওয়ার্ক চালিয়েছেন দেশজুড়ে। তাঁর বাবা কাজী গোলাম মোস্তফা উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, বগুড়ার ভুক্তভোগী দুই যুবকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বগুড়া সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর ইমরান মাহমুদ তুহিনের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

গতকাল বগুড়া সদর আমলি আদালতে তুলে তাঁদের প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। বিচারক বিল্লাল হোসেন তাঁদের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা