kalerkantho

শুক্রবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৭ সফর ১৪৪২

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়

অভিযুক্ত আখাউড়ার পাঁচ পুলিশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১৩ আগস্ট, ২০২০ ০২:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়

আখাউড়া থানার পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার দুপুরে স্থানীয় মসজিদপাড়ার হারুন মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আখাউড়া) আদালতে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর পরিদর্শক পদবির নিচে নয়, এমন কাউকে দিয়ে তদন্ত করিয়ে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

অভিযুক্তরা হলেন আখাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান, এসআই হুমায়ুন কবির, এএসআই মো. খোরশেদ, কনস্টেবল প্রশান্ত ও সৈকত। এর আগে পুলিশ সুপারের কাছে একই অভিযোগ করা হলে সেটির তদন্তও চলছে। অভিযুক্তদের মধ্যে এসআই হুমায়ুন ছাড়া বাকিরা এখনো আখাউড়া থানায় কর্মরত।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আখাউড়া পৌর এলাকার মসজিদপাড়ার হারুনের প্রতিবেশী হাসিনা বেগম (চিকুনি বেগম) এবং তাঁর মেয়ে তানিয়া ও তানজিনার যোগসাজশে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা মাদক কারবার করে আসছিলেন। হারুন মিয়া এতে বাধা দিলে হাসিনা ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশ সদস্যদের তাঁর পেছনে লাগিয়ে দেন। গত ২৬ মে রাতে অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্য নাটক সাজিয়ে  হাসিনা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁর প্ররোচনায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে হারুনের বাড়িতে ঢুকে তল্লাশির নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। এ সময় ক্রসফায়ারে হত্যার ভয় দেখিয়ে ঘরে থাকা ৪০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। এ ছাড়া তাঁরা ঘরের আসবাব তছনছ করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা ওই দিন ভোরে ফের এসে হারুন ও তাঁর স্ত্রীকে মাদকের মামলা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ভয় দেখিয়ে আটক করে এক লাখ টাকা দাবি করেন। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে রফা হলে হারুন ও তাঁর স্ত্রী ছাড়া পান। বিষয়টি কাউকে জানালে হারুনকে ক্রসফায়ার দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন অভিযানে থাকা পুলিশ সদস্যরা।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত এসআই মতিউর রহমান বলেন, ‘টাকা নেওয়া তো দূরের কথা, আমি হারুনের বাড়িতে গিয়েছি এরও যদি প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। মূলত সামাজিক লেনদেনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তি হারুন মিয়াকে উসকে দিয়ে এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগটি করিয়েছেন।’

আখাউড়া থানার ওসি মো. রসুল আহমেদ নিজামী জানান, এর আগেও এই বিষয়ে অভিযোগ উঠলে সেটির তদন্ত চলছে। আদালতে দেওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত হলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা