kalerkantho

শুক্রবার। ১৭ আশ্বিন ১৪২৭। ২ অক্টোবর ২০২০। ১৪ সফর ১৪৪২

ভাঙনে আতঙ্ক, ঝুঁকিতে জীবন

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১২ আগস্ট, ২০২০ ১৭:৪৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ভাঙনে আতঙ্ক, ঝুঁকিতে জীবন

পঞ্চগড়ে এবার ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে বেড়েছে করতোয়া নদীর ভাঙন। পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বেংহাড়ি বনগ্রাম ইউনিয়নের সোনাচান্দি, সরকারপাড়া, বন্দরমনি, নিচার ঘাট, আরাজি শিকারপুরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ভাঙনের প্রবনতা বেশি। ওই এলাকায় প্রধান রাস্তাটির অধিকাংশই এখন করতোয়ায় বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া বিদ্যালয়, মসজিদ ও ফসলি জমিসহ সহস্রাধিক ঘরবাড়ি রয়েছে ঝুঁকিতে। গত বছর নামমাত্র জিওব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর জন্য চেষ্টা করা হলেও কাজে অনিয়মের হওয়ায় তা কোন কাজেই আসেনি। এবার ভাঙন আরো বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পঞ্চগড় থেকে ফুলতলা হয়ে সোনাচান্দি নিচারঘাট রাস্তাটির অধিকাংশই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও হেঁটে যাওয়ার মতো রাস্তা অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র। রাস্তাটির অনেক স্থানেই বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ভাঙন শুরু হয়েছে আরাজি শিকারপুর সরকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে। করতোয়ার ভাঙন ওই বিদ্যালয়ের মাঠ পর্যন্ত চলে এসেছে। এ ছাড়া পূর্বদিকে বন্দরমনি পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে চলছে করতোয়ার তান্ডব। অনেক ফসলি জমি, কবরস্থান তেজপাতা ও আমের বাগানের অংশ ভেঙে ভেঙে নদীতে বিলীন হচ্ছে। ভাঙন ক্রমাগত গ্রামের দিকে এগিয়ে আসছে। দুটি বিদ্যালয়, দুটি মসজিদ, কবরস্থান, ফসলি জমি, বাগানসহ সহস্রাধিক ঘরবাড়ি এখন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভাঙন তীব্র হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমন কোন নজরদারি নেই সেখানে। এ ছাড়া পঞ্চগড়ের নদ নদীর ভাঙনের বিষয়টি অন্য এলাকার তুলনায় কম গুরুত্ব পায় বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। গত অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে ওই স্থানের ভাঙন ঠেকাতে প্রায় ৩০ লাখ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু জিওব্যাগ দিয়ে কোনমতে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করে দেয় ঠিকাদার। নিচ থেকে উপরের দিকে পর পর চার পাঁচটি জিওব্যাগ ফেলে দিয়েই কাজের ইতি টানা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের পকেট ভরলেও ভাঙন ঠেকাতে তা কোন কাজেই আসেনি।

পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, করতোয়া নদীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ওই স্থানগুলো চিহ্নিত করে বাঁধের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছি। প্রকল্প পাশ হলেই সেই অনুযায়ী ওই স্থানে বাঁধের কাজ হবে। তারপরও আমরা পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা