kalerkantho

বুধবার । ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১২ সফর ১৪৪২

মানবপ্রেম ও বকের পোষ মানার গল্প

বকটি নিয়ম করেই বাড়িতে ফিরে আসে, মাছ খেয়ে আবার উড়ে যায়

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

১২ আগস্ট, ২০২০ ১২:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বকটি নিয়ম করেই বাড়িতে ফিরে আসে, মাছ খেয়ে আবার উড়ে যায়

'প্রকৃতির বন্ধু পাখিরা অকৃতজ্ঞ না। সঙ্গী পেয়ে ভুলে যায়নি। দু-এক দিন পর হলেও দেখা করতে আসে। এখন বড় হয়েছে। তাজা পুঁটি মাছ দিই। মহামারির এই সময়ে ঝুঁকি নিয়েই এর জন্য মাছ সংগ্রহ করতে হয়েছে। ভালোবাসার মূল্য জানা ছোট্ট পাখিটারও। প্রকৃতি তার মতোই থাকুক।

সংবাদকর্মী দুলাল ঘোষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমনই একটি স্ট্যাটাস দিয়ে একটা ছবিও জুড়েছেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে বকটি দুলাল ঘোষের কাঁধে বসে আসে। আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায় দুলাল ঘোষের ডাকে সাড়া দিয়ে বকটি মাছ খেতে আসল ঘরে।

মানবপ্রেম ও বকের পোষ মানার সত্যিকারের এ গল্পটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার। প্রায় দেড় মাসের এ গল্প যে কাউকে আবেগী করে তুলবে। অসুস্থ বকটি সুস্থ হয়ে ভুলে যায়নি পেছনের মানুষগুলোকে। সঙ্গী নিয়ে দূরে গিয়ে আবার ফিরে আসে সেই বাড়িতে।

অবশ্য এ বাড়িটিতে বক নিয়ে ভালোবাসার গল্প নতুন হয়। ২০১৭ সালের অক্টোবরে অসুস্থ একটি বককে সুস্থ করে তুলেছিলেন দুলাল ঘোষের ছেলে দ্রুনাঞ্জন ও ভাতিজা প্রতীক্ষা। সেবার একটি বককে সুস্থ করে চলে যেতে সাহায্য করেছিল তারা। তবে সে গল্পটা ছিল ঘণ্টা বিশেকের। এনিয়ে কালের কণ্ঠে খবর প্রকাশিত হয়। এবার বকের প্রতি মানব ভালোবাসাটা দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস।

দুলাল ঘোষের বাড়ি আখাউড়া পৌর এলাকার রাধানগরে। বাড়িতে গাছগাছালি থাকায় মৌসুমে বকের আনাগোনা থাকে। বাড়ির লোকজনও বকের আনাগোনা পছন্দ করে। তাড়িয়ে দেওয়ার বদলে অতিথি হিসেবেই বরণ করে নেয়। বড়দের এমন প্রেম ছড়িয়ে গেছে ছোটদের মাঝেও।

দুলাল ঘোষ জানান, চৈত্র থেকে শ্রাবণ পর্যন্ত বাড়ির আম, কাঁঠাল গাছে বক এসে থাকে। কখনো কখনো আরো দু-এক মাস বেশি। এবারও বক আসার ব্যতিক্রম হয়নি। গত ২৭ জুন একটি ছোট বক আঘাত পেয়ে মাটিতে পড়ে যায়। যথারীতি ছেলে দ্রুনাঞ্জন ও ভাতিজা প্রতীক্ষা মিলে বকটির সেবা করে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বকটির সেই ক্ষমতা না থাকায় উড়তে পারছিল না। একপর্যায়ে ঘরে এসে আশ্রয় নেয় বকটি। এরপর থেকে বাড়ির সবাই মিলে বকটিকে দেখভাল শুরু করেন। প্রথমে নিজেরা বকটিকে খাইয়ে দিতেন। এখন আর খাইয়ের দিতে হয় না। ফ্রিজে থাকা পুঁটি মাছ পানিতে ভিজিয়ে খাবার উপযোগী করে দিলে সেটি নিজেই খেয়ে নেন। এ অবস্থায় বকটিকে গাছে বসিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বকটি অবাক করে দিয়ে ঘরেই ফিরে আসে। এভাবে চলতে থাকে বেশ কিছুদিন। একদিন সঙ্গী পেয়ে উড়ে যায় বকটি। ধরে নেওয়া হয় আর ফিরবে না। কিন্তু আবারো অবাক সবাই। বকটি নিয়ম করেই বাড়িতে ফিরে আসে। মাছ খেয়ে আবার উড়ে যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা