kalerkantho

বুধবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৫ সফর ১৪৪২

বন্ধুকে বেঁধে রেখে বান্ধবীকে ধর্ষণ

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

১১ আগস্ট, ২০২০ ১৬:২৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বন্ধুকে বেঁধে রেখে বান্ধবীকে ধর্ষণ

দিনাজপুরে নবাবগঞ্জ শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যানের ভেতর গতকাল সোমবার বিকেলে এইচএসসি পড়ুয়া বন্ধুর সঙ্গে কাঠের সেতু দেখতে গিয়ে স্থানীয় কয়েক বখাটের কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কলেজপড়ুয়া (১৮) এক শিক্ষার্থী। সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় ধর্ষিতা শিক্ষার্থীর বন্ধু রিয়াজুল ইসলাম বাদী হয়ে চার যুবকের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন, অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। এঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে চার যুবককে আটক করেছে। পুলিশের দাবি এ চক্রটির সঙ্গে আরো অনেকেই রয়েছেন। খুব দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আটককৃতরা যুবকরা হলো নবাবগঞ্জ উপজেলার শগুনখোলা গ্রামের শরিয়ত উল্লাহ এর ছেলে শাহিনুর (৩০) একই গ্রামের ইসমাঈল হোসেন এর ছেলে আজিম (৩১), ফতেপুর মাড়ার গ্রামের আব্দুল মতিন এর ছেলে সাজেদুল ইসলাম সাজু (২১) এবং আবু তাহেরের ছেলে শাহারুল ইসলাম (২০)।

মামলার বাদী ছেলে বন্ধু মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, সোমবার বিকেলে পূর্বপরিচিত এইচএসসি পড়ুয়া দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী (১৮) কে নিয়ে শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যানের ভেতর শেখ ফজিলাতুন নেছা কাঠের সেতু দেখতে যায়। সেখানে স্থানীয় কয়েক যুবক আগে থেকেই তাদের গতিবিধি লক্ষ করছিল। কাঠের সেতুর পূর্বপাশে যাওয়ার পর রিয়াজুল ইসলামকে বেঁধে এলোপাতাড়ি পিটুনি দিতে থাকে পাঁচ যুবক। এসময় তার কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে সেখানে রিয়াজুল ইসলাম (১৮) কে বেঁধে রেখে মেয়েটিকে জোরপূর্বক বনের গহীনে নিয়ে ধর্ষণ করে। 

রিয়াজুল ইসলাম বলেন, সেখান থেকে পালিয়ে লোকালয়ে এসে ৯৯৯ ফোন দিয়ে বিষয়টি পুলিশকে অবগত করা হয়। কিছুক্ষণ পর সেখানে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ এসে স্থানীয়দের সহায়তায় বনের ভেতর থেকে দুজনকে আটক করে। পরে আটক যুবকদের দেওয়া তথ্যে অভিযান চালিয়ে আরো দুজনকে আটক করা হয়।

জানা যায়, শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যানটি ২০১০ সালে শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। উদ্যানটি ৫১৭.৬১ হেক্টর জায়গাজুড়ে অবস্থিত। উদ্যানটির পাশে রয়েছে আশুড়ার বিল। উদ্যানটির পাশে আশুড়ার বিলে গতবছর নির্মাণ করা হয় দৃষ্টিনন্দিত আঁকাবাঁকা ৯ শ মিটার শেখ ফজিলাতুন নেছা কাঠের সেতু। করোনাভাইরাসের কারণে সরকার দেশের সকল পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে বন্ধ ঘোষণা করলেও এ উদ্যানটিতে উঠতি বয়সের ছেলে ও মেয়েদের আনাগোনা ছিল চোখে পড়ার মতো। পর্যটনকেন্দ্রে নেই সরকারিভাবে কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা। সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা অবধি চলে যুবক-যুবতীদের আনাগোনা। ফলে হরহামেশায় ঘটছে এমন ঘটনা। 

মামলার বরাত দিয়ে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ বলেন, ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে দুই যুবককে আটক করা হয়। এরপর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ঘটনায় জড়িত আরো দুজনকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের নামে নারীও শিশু নির্যাতন আইন, অপহরণ, চাঁদা দাবির অভিযোগের মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক কুমার চৌহান বলেন, বেশ কিছুদিন থেকে শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যানে আসা দর্শনার্থীদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। আজ এই চক্রের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। আটক আসামিদের আজ মঙ্গলবার দিনাজপুর জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ধর্ষিতা ওই শিক্ষার্থীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান রক্ষা কমিটির সভাপতি মো. মাহাবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন থেকে উদ্যানটি বন্ধ থাকার পরও কিছু দর্শনার্থী আঁকাবাঁকা 'শেখ ফজিলাতুন নেছা' কাঠের সেতু দেখতে আসে। সরকারিভাবে পর্যটকদের দেখভাল করার কোনো লোক না থাকায় এমন ঘটনা ঘটছে। এঘটনায় জাতীয় উদ্যান রক্ষা কমিটি দুঃখ প্রকাশ করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা