kalerkantho

শুক্রবার । ৩ আশ্বিন ১৪২৭। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০। ২৯ মহররম ১৪৪২

লেবাননে নিহত রাশেদের পরিবারে শোকের মাতম, লাশের অপেক্ষায় মা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

৯ আগস্ট, ২০২০ ২৩:০২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



লেবাননে নিহত রাশেদের পরিবারে শোকের মাতম, লাশের অপেক্ষায় মা

লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর নিখোঁজ নারায়ণগঞ্জের যুবক মোহাম্মদ রাশেদকে একটি হাসপাতালে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। রাশেদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আসলাম হোসেন রবিবার রাতে জানান, লেবাননে নিহত রাশেদ ফতুল্লার নন্দলালপুর এলাকার মৃত হাফিজুর রহমানের ছেলে। তার পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। এদিকে রাশেদের মৃত্যুর খবরে শোকের মাতম চলছে তার পরিবারে। ছেলের লাশের অপেক্ষায় দিন গুণছে তাঁর বৃদ্ধা মা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাশেদ ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড নন্দলালপুর গ্রামের হাফিজুর রহমান ও লুৎফন নেছার দ্বিতীয় পুত্র। তাদের দুই ছেলে দুই মেয়ে। রাশেদ ভাইবোনদের মধ্যে দ্বিতীয়। জানা গেছে, ৬ বছর আগে লেবাননে যায় রাশেদ।

এদিকে আজ রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাশেদের বাড়ি নন্দলালপুর গিয়ে দেখা গেছে পুরো পরিবারে শোকের মাতম। সন্তানের জন্য কাঁদছে বৃদ্ধা মা লুৎফন নেছা।

তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, বাবা মারা যাওয়ার পর তিনি তার ৪ সন্তানদের কষ্ট করে লালন পালন করেন। সুখের আশায় রাশেদকে পাঠানো হয় লেবানন। গত ১৪ দিন ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে তার লাশ শনাক্ত হওয়ার পর তার খালাতো ভাই আমাদের খবর দেয়।

তিনি জানান, রাশেদের লাশের অপেক্ষায় রয়েছি। ছেলেকে শেষ বারের মতো একনজর দেখতে চাই।

রাশেদের বোন তাহমিনা কালের কণ্ঠকে জানান, অকালে আমার ভাই আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। ভাইয়ের লাশের অপক্ষায় আছি আমরা।

জানা গেছে, বিস্ফোরণ এলাকা থেকে ৪০০ গজ দূরে ঝিমাইজি এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করতেন মোহাম্মদ রাশেদ। মঙ্গলবার বিস্ফোরণে পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার দুপুরে জলদ্বীপ এলাকায় অবস্থিত হারুন হাসপাতালে তার মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়।

দূতাবাসের হেড অব চ্যান্সেরি ও ফার্স্ট সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশি শ্রমিক মোহাম্মদ রাশেদ বিস্ফোরণের পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন, তাকে জলদ্বীপ এলাকায় হারুন হাসপাতালে শনিবার মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার আত্মীয় স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য, বৈরুতে গত ৪ আগস্ট ভয়াবহ দুটি বিস্ফোরণে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২১ সদস্যসহ ১০৮ প্রবাসী আহত হন। এই বিস্ফোরণে মারা গেছেন পাঁচ বাংলাদেশি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা