kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ১ অক্টোবর ২০২০। ১৩ সফর ১৪৪২

মঠবাড়িয়ায় শিশু কন্যাসহ দম্পতি হত্যা রহস্য উদঘাটন

টাকা ও স্বর্ণ লুটতে গিয়ে তিনজনকে শ্বাসরোধে হত্যা

মূল হোতাসহ দুইজন গ্রেপ্তার

আঞ্চলিক প্রতিনিধি,পিরোজপুর   

৯ আগস্ট, ২০২০ ০০:০৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টাকা ও স্বর্ণ লুটতে গিয়ে তিনজনকে শ্বাসরোধে হত্যা

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় আয়নাল হক (৩২) তার স্ত্রী আমেনা বেগম খুকুমণি (২৬) তাদের একমাত্র তিন বছরের শিশু কন্যা আশফিয়া (৩)কে হত্যার পর তিনজনের লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। গত ৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) দিনগত গভীর রাতে উপজেলার ধানীসাফা ইউনিয়নের ধানীসাফা গ্রামে এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটনার ১০ দিন পর পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।

আজ শনিবার দিনগত রাত ৮টার দিকে পুলিশ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হত্যার রহস্য ও জড়িতদের বিষয়ে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।একই গ্রামের সংঘবদ্ধ চার দুর্বৃত্ত মিলে  টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটে নিতে গেলে নিহত অটোচালক দুর্বৃত্তদের চিনে ফেলায় দুর্বৃত্তরা পালাক্রমে তিনজনকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখে।

আজ শনিবার রাতে মঠবাড়িয়া থানায় অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. হায়াতুল ইসলাম, মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হাসান মোস্তফা স্বপন, থানার অফিসার মো. মাসুজ্জামান ও অফিসার ইনচার্জ তদন্ত মো. আব্দুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে অবহিত করা হয়, মঠবাড়িয়া উপজেলার ধানীসাফা গ্রামের অটোচালক মো. আয়নাল হকের ভাড়া বাসায় টাকা ও স্বর্ণ লুটের উদ্দেশে একই গ্রামের তোজাম্বর আলী বিশ্বাসের ছেলের ও তার তিন সহযোগী মিলে গত ৩০ জুলাই রাতে হানা দেয়। তারা সিদ কেটে ঘরে ঢুকে বাসার মালামাল তছনছ শুর করে।

এসময় গৃহকর্তা অটোচালক চার দুর্বত্তকে চিনে ফেলায় অটোচালক আয়নাল হক ও তার স্ত্রী আমেনা বেগম খুকুমণিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে তাদের লাশের হাত-পা বেঁধে আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। এসময় ঘর থেকে দুর্বৃত্তরা বের হয়ে আসার সময় ওই দম্পতির তিন বছরের শিশু কন্যা আশফিয়াকেও শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়। পর দিন পুলিশ তিনজনের বসতঘর হতে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

এ চাঞ্চল্যকর তিন খুনের ঘটনায় নিহত আয়নাল হকের শ্বশুর উপজেলার চিত্রা গ্রামের আবুল কালাম সর্দার বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মঠবাড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ তিন খুনের ঘটনা দ্রুত তদন্তে আইন-শৃংখলাবাহিনীর তিনটি সংস্থা সিআইডি'র ছয় সদস্য, পিবিআই এর নয় সদস্য, র‌্যাব ও ডিবির একদল গোয়েন্দা হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত  শুরু করে। 

ঘটনার ১০ দিনের মাথায় তদন্তে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে আইন-শৃংখলা বাহিনী। আজ শনিবার হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা একই গ্রামের তোজাম্বর বিশ্বাসের ছেলে অলি বিশ্বাস(৩৮)কে গ্রেপ্তার করে। এরপর তার গ্রামেরবাড়িতে তাকে নিয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। তার কথিত মতে বাড়ির পুকুর হতে হত্যাকাণ্ডের ব্যবহৃত ২টি লোহার পাইপ, একটি রামদা ও লুণ্ঠিত কিছু অর্থ উদ্ধার করে পুলিশ। 

এসময় তার অপর এক সহযোগী একই গ্রামের কাওসার বেপারীর ছেলে রাকিব বেপারী (২০)কেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা এ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে পুলিশের কাছে। এছাড়া এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরো দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

এ ব্যাপারে মঠবাড়িয়া অফিসার ইনচার্জ মো. মাসুদুজ্জামান মিল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত অলি বিশ্বাস ও রাকিব বেপারী হত্যার দায় স্বীকার করেছে। এ কিলিং মিশনে চারজন অংশ নেয়। অপর দুই সহযোগিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নিহত গৃহকর্তা দুর্বৃত্তদের চিনে ফেলায় চারজন মিলে পালাক্রমে তিনজন হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখে।

পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপার হায়াতুল ইসলাম খান বিষযটি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের  বলেন, এ চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসান মোস্তফা স্বপনের নেতৃত্বে র‌্যাব, সিআইডি, পিবিআই, ডিবিসহ থানা পুলিশের ৫টি টিম মাঠে সার্বক্ষণিক কাজ করে। হত্যার মূল হোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুই সহযোগীর নাম এ মুহূর্তে প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা