kalerkantho

শুক্রবার। ১৭ আশ্বিন ১৪২৭। ২ অক্টোবর ২০২০। ১৪ সফর ১৪৪২

পুলিশ বেপরোয়া লাঠিচার্জে পণ্ড করল সিফাতের মুক্তি দাবির মানববন্ধন

বরগুনা (বামনা) প্রতিনিধি   

৮ আগস্ট, ২০২০ ১৬:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুলিশ বেপরোয়া লাঠিচার্জে পণ্ড করল সিফাতের মুক্তি দাবির মানববন্ধন

গত ৩১ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের গাড়িতে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তাঁর সহপাঠীরা। সিফাতের নিজ বাড়ি বরগুনার বামনা উপজেলায় সিফাতের মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন শুরু করেন তাঁর সহপাঠীরা। এ সময় পুলিশ এসে প্রথমে মানববন্ধনের ব্যানার ও মাইক ছিনিয়ে নেয়। পরে লাঠিচার্জ করে মানববন্ধন পণ্ড করে দেয় পুলিশ।

আজ শনিবার দুপুর ১২টায় উপজেলার কলেজ রোডে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা অংশ নেয়।

জানা যায়, সিফাতের বন্ধুরা  মানববন্ধন চালিয়ে গেলে বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস আলী তালুকদার ছুটে এসে শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা শুরু করেন। এতে চারজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। আহতরা হলেন- মো. রুবেল, ইমরান, রায়হান ও মিথুন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী পুলিশের লাঠিচার্জে আহত মো. রুবেল বলেন, আমরা আমাদের বন্ধুর মুক্তির জন্য মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি। আমরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করছিলাম। এর আগে আমরা মানববন্ধনের জন্য পুলিশকে জানালে তাঁরা আমাদের মানববনন্ধন করতে দেয়নি। সারা বামনায় টহল বসিয়ে আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে। আজ যখন শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন শুরু করেছি, তখন প্রথমে পুলিশ এসে আমাদের ব্যানার নিয়ে যায়। পরে ওসি ইলিয়াস এসে ওসি প্রদীপের চেয়েও ভয়ংকর রূপ ধারণ করে আমাদের ওপর লাঠিচার্জ করেন।

শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, পুলিশ এভাবে জঘন্যতমভাবে গালিগালাজ ও অহেতুক লাঠিচার্জ করতে পারে আমরা জীবনে প্রথম দেখেছি। ওসি মানববন্ধনে থাকা শিক্ষার্থী ও সিফাতের নানা এনায়েত কবির হাওলাদারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছেন, যেটা মোটেও কাম্য নয়।

সিফাতের নানা এনায়েত কবির হাওলাদার বলেন, পুলিশের আজকের ভূমিকা খুবই দুঃখজনক। আমি এখন আমার নাতিকে নিয়ে সংশয়ে আছি।

এ ব্যাপারে বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস আলী তালুকদার বলেন, আমাদের অনুমতি না নিয়ে কতিপয় দুষ্কৃতকারী সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করতেছে এমন সংবাদ পেয়ে আমি মানববন্ধনটি বন্ধ করে দিই।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাত ৯টায় টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর পুলিশ চেকপোস্টে এক পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। পরে পুলিশ সিনহার সফরসঙ্গী সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে মাদক ও পুলিশের দিকে অস্ত্র তাক করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা