kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ১ অক্টোবর ২০২০। ১৩ সফর ১৪৪২

ক্লিনিকের বর্জ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী

ভাঙ্গুরা (পাবনা) প্রতিনিধি   

৮ আগস্ট, ২০২০ ১৪:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্লিনিকের বর্জ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরশহরের হেলথ কেয়ার ক্লিনিকের যত্রতত্র ফেলা দূষিত বর্জ্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। মানুষের শরীর থেকে নিঃসরিত দূষিত এসব বর্জ্যের দুর্গন্ধে ক্লিনিকের আশপাশের বাসিন্দারা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এসব দূষিত বর্জ্যের নিষ্কাশনের দাবি জানালেও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাতে কর্ণপাত করেননি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে স্থানীয় একজন প্রধান শিক্ষক এর প্রতিকার চেয়ে পৌর মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া পৌরশহরের শরৎনগর বাজারে এক যুগ আগে হেলথ কেয়ার ক্লিনিক স্থাপিত হয়। পাঁচতলা ভবনের এই ক্লিনিকে প্রতিদিন সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। এছাড়া প্রতি শুক্রবারে রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে আগত চিকিৎসকরা নানা জটিল ও কঠিন রোগের অস্ত্রোপচার করেন। অস্ত্রোপচারের এসব রোগীসহ অন্যান্য রোগের রোগীরা ক্লিনিকে ভর্তি থাকেন। এতে সিজারিয়ানসহ অন্যান্য অস্ত্রপাচারের রোগীদের দেহের নিঃসরিত দূষিত বর্জ্যের আংশিক ক্লিনিকের আশপাশে ফেলা হয়। 

এদিকে ক্লিনিকের দক্ষিণ ও পূর্ব পাশে রয়েছে আবাসিক এলাকা। ক্লিনিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ও ভর্তি হওয়া রোগীরা জানালা দিয়ে মাঝেমধ্যেই নোংরা বর্জ্য বাইরে ফেলেন। যেসব বর্জ্য ক্লিনিকের আশপাশের বাসায় ও সরু পয়ঃনিষ্কাশন ড্রেনে গিয়ে পড়ে। ফলে বৃষ্টি হলে এসব বর্জ্যে সরু পয়ঃনিষ্কাশন ড্রেনে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে এলাকায় মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষণ ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাছে এসব দূষিত বর্জ্যের সুনির্দিষ্ট নিষ্কাশনের জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় কারোর কোনো কথা তোয়াক্কাই করছেন না। নিরুপায় হয়ে ক্লিনিকের পাশের বাসিন্দা ও দিলপাশার ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আফসার আলী রানা এর প্রতিকার চেয়ে সম্প্রতি ভাঙ্গুড়া পৌর মেয়রের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্লিনিকের পাঁচতলা ভবনের বিভিন্ন ইউনিট থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও রোগীরা দেহের নিঃসরিত আবর্জনাসহ নানা ধরনের বর্জ্য জানালা দিয়ে যত্রতত্র বাইরে ফেলেছেন। যা ওই প্রধান শিক্ষকের বাসার ভেতর ও পয়ঃনিষ্কাশন ড্রেনের মধ্যে পড়ে রয়েছে। এ থেকে প্রচুর পরিমাণে মশা ও মাছিসহ নানা প্রকারের পোকামাকড়ের উৎপত্তি হচ্ছে এবং মারাত্মক দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। এতে এই এলাকায় সাধারণ মানুষ প্রচন্ড স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পঢ়ছেন।

অভিযোগকারী প্রধান শিক্ষক আফসার আলী রানা বলেন, ক্লিনিকের ভবন থেকে যখন তখন নোংরা আবর্জনা বাসার মধ্যে ফেলা হয়। বিশেষ করে রক্তসহ মানুষের বর্জ্য যখন বাসার মধ্যে পড়ে তখন খুবই অস্বস্তিতে পড়তে হয়। বাসায় খাবার খেতে বসলে দুর্গন্ধ অনেক সময় খেতে পারি না। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কাছে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করলেও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দিনের-পর-দিন তারা পরিবেশ দূষণ করেই যাচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিকের মালিক ডা. মমতাজ উদ্দিন বলেন, অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু আবর্জনা পড়লেও তা সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়। এরপরেও আশপাশে যেন কোনো প্রকার নোংরা বর্জ্য না পড়ে সে বিষয়ে অধিকতর খেয়াল রাখা হবে। ভাঙ্গুড়া পৌর মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল অভিযোগ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি সমাধানের জন্য বলা হয়েছে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে আশপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা