kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

স্কুলছাত্র রাসেল খুন

১৬ বছরেই পরিকল্পিত খুনি! সামনে থাকলেও ছিল সন্দেহের বাইরে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৭ আগস্ট, ২০২০ ১৮:২৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১৬ বছরেই পরিকল্পিত খুনি! সামনে থাকলেও ছিল সন্দেহের বাইরে

চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী থানার স্কুলছাত্র মো. রাসেল খুনের রহস্য উম্মোচন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে তার বন্ধু মো. হাসানুল করিম। এই হাসান পেশায় ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি। পূর্বে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই ১৩ বছর বয়স্ক স্কুলছাত্রকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে হাসান। সে খুলশী থানার জালালাবাদ হাউজিং সোসাইটির ৪নম্বর রোডের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে। আর নিহত রাসেল ছিল পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্র।

বয়সে মাত্র ১৬ বছর হলেও হাসান খুনের ঘটনার আগে পরে যে আচরণ করেছে, তা বিশ্লেষণ করে রীতিমত বিস্মিত হয়েছে পুলিশ। রাসেলকে খুন করার জন্য যেই ছুরি সে কিনেছে, সেটি কেনার সময় সঙ্গে নিয়েছিল রাসেলকে। আর খুনের পর এমন আচরণ করেছে, যাতে পুলিশ শুরুতে সন্দেহই করেনি এই কিশোর তারই বন্ধুকে খুন করতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভাবনীয় কাজটিই হয়েছে। 

হাসান স্বীকার করেছে, সে রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে কেনা ছুরিটি দিয়েই রাসেলকে খুন করেছে। আর হত্যাকাণ্ডের পর স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করেছে, যাতে কেউ কিছু বুঝতে না পারে।

হত্যা রহস্য উম্মোচন করে বায়েজিদ জোনের সহকারী কমিশনার পরিত্রাণ তালুকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ধৃত হাসান ও স্কুলছাত্র রাসেল দুজনই বন্ধু। বয়সে হাসান তিন বছরের বড়। তাদের মধ্যে কিছুদিন আগে ঝগড়া হয়েছিল। পরে তা মিটে যায়। এর জের ধরেই হাসান রাসেলকে খুন করে। ক্ষোভ থেকেই খুনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা আদালতে জানিয়েছে হাসান। গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে সোপর্দ করার পর পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয়েছে।

সহকারি কমিশনার পরিত্রাণ তালুকদার বলেন, রাসেল খুন হওয়ার পর তিন দিন পরিবার তাঁর খোঁজ পায়নি। মরদেহ থেকে গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের মাধ্যমে খুলশী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। খুনের পর হাসান স্বাভাবিক চলাফেরা করেছে। রাসেলকে খোঁজার সময় অন্যদের সঙ্গে হাসানও তাঁকে খুঁজেছে। ফলে তাকে শুরুতে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়নি।

একই বিষয়ে খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রণব চৌধুরী বলেন, ৩১ জুলাই বিকেলে হাসান নিউমার্কেট যাওয়ার কথা বলে রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে বের হয়। সেখানে গিয়ে একটি স্টিলের ছুরি ক্রয় করে। সন্ধ্যায় খুলশী থানার জালালাবাদ এলাকার হাসেম করপোরেশনের পাহাড়ের কাছে গিয়ে রাসেলকে ওই পাহাড়ে উঠার জন্য বলে। তখন রাসেল পাহাড়ে যেতে রাজি হয়নি। পরক্ষণে হাসান জানায়, সেখানে একটি স্থানে হাসান চার হাজার টাকা লুকিয়ে রেখেছে। সেই টাকা আনতে পাহাড়ে যেতে হবে। এরপর রাসেল হাসানের সঙ্গে পাহাড়ে যায়।

পাহাড়ে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ এদিক সেদিক কিছু একটা খোঁজে হাসান। এরপর একটি প্যাকেট দেখতে পায়। সেই প্যাকেটটি তুলতে বলে রাসেলকে। রাসেল প্যাকটটি তুলতে গেলেই রাসেলের পেটে ছুরিকাঘাত করে হাসান। শরীরের কয়েকটি স্থানে ছুরিকাঘাত করার পর রাসেলকে ঝোঁপে ফেলে দিয়ে বাসায় ফিরে হাসান। বাসায় গিয়ে প্যান্ট ও শার্টের রক্ত পরিষ্কার করে এবং সেই কাপড় পরিবর্তন করে রাতে ঘুমিয়ে পড়ে। ঈদের পরদিন বন্ধু রাহাতের সঙ্গে হাসানের দেখা হলে রাসেলকে খুনের বিষয়ে খুলে বলে হাসান।

এদিকে কোরবানির ঈদের আগেরদিন থেকে রাসেল নিখোঁজ হওয়ায় তার পরিবার তাকে খোঁজা শুরু করে। কিন্তু কোথায় তাকে পাওয়া যায়নি। পরে থানাকে অবহিত করে। তিনদিন পর ৩ আগস্ট পাহাড় থেকে মরদেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় রাসেলের বাবা হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় হাসানকে ৬ আগস্ট রাতে গ্রেপ্তার পুলিশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা