kalerkantho

শুক্রবার। ১৭ আশ্বিন ১৪২৭। ২ অক্টোবর ২০২০। ১৪ সফর ১৪৪২

শিমুলিয়া ফেরিঘাট

রাতে চাঁদা দিলে সকালে অগ্রাধিকার!

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

৭ আগস্ট, ২০২০ ১৮:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাতে চাঁদা দিলে সকালে অগ্রাধিকার!

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ফেরিঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চাপাক্ষোভ বিরাজ করছে সংশ্লিষ্টদের মাঝে। যেকোন সময় তা বিক্ষোভে পরিণত হতে পারে। পরিবহন থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করেই ঘাট নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় একাধিক সংস্থা। যার যে কাজ, সেই কাজ না করে ঘাটে যানবাহনের সিরিয়ালের কাজটি নিতে ব্যস্ত সবাই। এতে এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। নিয়োগকৃত আনাসারের কাজটি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। এখানে বিআইডব্লিউটিসির ফেরিতে যানবাহনের চাহিদাকেও উপেক্ষা করছে ট্রাফিক পুলিশ।

ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের চাপ সামাল দেওয়ার জন্য এ নৌ-রুটে ৮৭টি লঞ্চ, প্রায় তিন শতাধিক সি-বোট ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ১২টি কোম্পানির প্রায় পাঁচ শতাধিক যাত্রীবাহী বাস চলাচল করলেও কিছুতেই কমছে না যাত্রীদের চাপ। এ সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু লঞ্চ মালিক, বাস মালিক ও শ্রমিকরা করোনাকালীন সময়ও নির্দেশনার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন করছে। এর ফলে চরম ভাবে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করা হচ্ছে এ ঘাটের ফেরি, লঞ্চে ও বাসে। বাস র্টামিনালে এসব ব্যাপারগুলো দেখভাল করার জন্য ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের কাজ করার কথা থাকলেও তারা সময় পার করছেন ফেরি ঘাটের গাড়ির সিরিয়াল নিয়ে।

অথচ নিয়ম অনুযায়ী ফেরিঘাটের সিরিয়ালের জন্য বিআইডব্লিউটিসি কতৃপক্ষ ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়ন করলেও তাদের কোন কাজ করতে দেয় না ট্রাফিক পুলিশ। আর এর পেছনে সিরিয়ার দেওয়ার নামে অবৈধ অর্থই কাজ করছে বলে ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি নিয়ন্ত্রণ ফেলে রেখে এখন ফেরিতে সিরিয়াল দিতে বেশি ব্যস্ত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে বিআইডব্লিউটিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআইডব্লিউটিসির একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী জানান, সংশ্লিষ্টদের বাদ দিয়ে এখানে ট্রাফিক পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করছে ফেরিতে গাড়ি তোলার সিরিয়াল। ফেরি ঘাটে ট্রাফিক পুলিশের হস্তক্ষেপের কারণে বিআইডব্লিউটিসি ও আনসার সদস্যসহ এ নৌ-রুটে নিয়মিত ভাবে যাতায়াতকারী পরিবহন চালকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এদিকে ট্রাফিক পুলিশের এমন হস্তক্ষেপের কারণে জরুরী পরিষেবার অনেক যানবাহন অন্য রুট ব্যবহার করছে বলে চালকরা জানায়।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, ঘাটে আটকে পড়া ট্রাক চালকদের কাছ থেকে এক শ্রেণির নির্ধারিত দালাল রাতে বিভিন্ন অংকে চাঁদা নেয়। পরে সকালে ট্রাফিক পুলিশের সাথে যোগসাজসে ওই সকল দালালদের চাঁদা নেওয়া গাড়িগুলো আগে পার করাতে সিরিয়াল দেয় ট্রাফিক পুলিশ। তাদের দেয়া যানবাহনগুলোকেই পার করতে বাধ্য হয় বিআইডব্লিউটিসি। অনেক সময় ফেরিতে চাহিদা কম বেশি থাকলেও তা শুনতে না চান না ট্রাফিক পুলিশ। এ নিয়েই এখন বিআইডব্লিউটিসির তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ ব্যাপরে মাওয়া ঘাটের ট্রাফিক পুলিশের টিআই হিলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের দায়িত্ব পুরো ঘাট এলাকায়। সিরিয়াল মেইন্টেন আনসারের কাজ নয়। আমরা সিরিয়ালের দায়িত্ব নেওয়াতে তাদের হয়তো কোন সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া আমার কোন লোক রাতে বা দিনে চাঁদা আদায়ের সাথে জড়িত না। সিরিয়ার মেনেই গাড়িগুলোকে ফেরিতে উঠতে দেয়া হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা