বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে এক নারীকে ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে অশালীন ছবি, ভিডিও ও আপত্তিকর বার্তা পাঠিয়ে কু-প্রস্তাব দেওয়া এবং শিশুকন্যাকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আপন বাদশা (২৭) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত ৯টায় নওগাঁ শহরের ছোট যমুনা নদীর ওপর অবস্থিত লর্ড লিটন সেতু থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আজ শনিবার সকালে সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশ তাকে কোর্টে প্রেরণ করা করেছে। গ্রেপ্তার বাদশা উপজেলার সান্তাহার ইউপির উথরাইল জাহানাবাজ গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার আপন বাদশা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারীকে অশালীন ছবি, ভিডিও ও আপত্তিকর বার্তা পাঠিয়ে মানসিকভাবে হয়রানি করছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সময় অডিও কলে কু-প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি তার ১০ বছর বয়সী শিশুকন্যাকে রাস্তাঘাটে যৌন নিপীড়ন করতেন। গত ২১ জুন দুপুর সাড়ে ১২টায় ওই নারী স্কুটি বাইক নিয়ে বাসায় ফেরার পথে সান্তাহার রেলগেট অতিক্রম করার সময় অভিযুক্ত বাদশার সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সময় তিনি অশালীন ছবি, ভিডিও ও বার্তা পাঠানো এবং তার শিশুকন্যাকে রাস্তাঘাটে যৌন নিপীড়নের বিষয়ে জিজ্ঞেস করেন। এতেই বাদশা ক্ষিপ্ত হয়ে পেছন দিক থেকে তাকে কিল-ঘুষি মারেন এবং একপর্যায়ে হাতে থাকা লোহাজাতীয় একটি অস্ত্র দিয়ে তার মাথার পেছনে আঘাত করেন। এতে তার মাথার বাঁ পাশে ফেটে গিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় বাদশা ওই নারীর গলায় থাকা প্রায় ১২ আনা ওজনের সোনার একটি চেইন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এরপর গত ২৭ জুন রাতে ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও সংশ্লিষ্ট ধারায় সান্তাহার রেলওয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে শুক্রবার রাতে নওগাঁ শহরের লর্ড লিটন সেতু থেকে আপন বাদশাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দুলাল উদ্দীন বলেন, ‘গ্রেপ্তার আপন বাদশাকে শনিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’







