kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

থানায় হামলার অভিযোগে ছাত্রলীগ সম্পাদকসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০২০ ২১:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



থানায় হামলার অভিযোগে ছাত্রলীগ সম্পাদকসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

অপহরণ মামলার আসামিকে ছিনিয়ে নিতে কামারখন্দ থানায় হামলা চালানোর অভিযোগে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মামুন শেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। ঘটনার সময় ছাত্রলীগ নেতা মামুনকে আটকও করা হয়েছে। কামারখন্দ থানার এসআই বিপ্লব বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে মামলাটি দায়ের করেন।  

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, মঙ্গলবার বিকেলে ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক বিজয় হত্যা মামলার বাদী বড় ভাই রুবেলকে অপহরণের অভিযোগ এনে তার বাবা কাদের প্রামাণিক থানায় মামলা দায়ের করেন। এর পরই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি কামারখন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পারভেজ রেজা পাভেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই খবর পেয়ে ১০০-১৫০ জন দলীয় সমর্থক নিয়ে থানার সামনে হাজির হয়ে পাভেলকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করতে থাকে। তাদের উসকানিমূলক বক্তব্য ও স্লোগানে উপস্থিত জনতা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং ছাত্রনেতা মামুন যেকোনো মূল্যে গ্রেপ্তার হওয়া পাভেলকে ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকি দেন। ২ ঘণ্টাব্যাপী এ অবস্থা চলার একপর্যায়ে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে মামুনের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ জন  থানা কম্পাউন্ডের ভেতরে প্রবেশ করে এবংপাভেলকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য মূল ভবনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। এতে বাধা দিলে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এ অবস্থায় লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে অন্যরা পালিয়ে গেলেও মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নিহত বিজয়ের বাবার দায়ের করা অপহরণ মামলারও প্রধান আসামি।     

এদিকে মামলার এজাহারের সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনার সঙ্গে কিছু গরমিল পাওয়া গেছে। এজাহারে থানার ভেতরে ১৪-১৫ জন প্রবেশের কথা উল্লেখ করা হলেও প্রায় দেড় শতাধিক লোকের সমাগম দেখা গেছে। শুধু লাঠিচার্জের মাধ্যমে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে বলা হলেও এ সময় কয়েকটি শর্টগানের গুলির শব্দ শোনা গেছে। থানার সামনের রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ নেই এজাহারে। মামলার আরজিতে উল্লেখ না থাকলেও পুলিশের ছোড়া শর্টগানের গুলিতে থানায় হামলা করতে আসা ৮/১০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে ভদ্রঘাট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

আহত ইব্রাহিমের বাবা চৈরগাতি ভদ্রঘাট গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, ঘটনার দিন অন্যান্যদের সাথে আমার ছেলেও কামারখন্দ থানায় গিয়েছিল। পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার কথা শুনেছি। কিন্তু আমার ছেলের অবস্থা বেশি গুরুতর। তার মুখে গুলি লেগেছে। ঢাকার একটি হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা করা হচ্ছে।
    
প্রসঙ্গত, ২ আগষ্ট বিজয় হত্যা মামলার বাদী বড় ভাই রুবেলকে কামারখন্দ বাজার এলাকা থেকে মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করা হয়। হত্যা মামলা তুলে নিতে এবং নিহত বিজয়ের ব্যবহৃত মোবাইল ও মেমোরী কার্ডের জন্য চাপ দেয় অপহরণকারীরা। একপর্যায়ে রুবেলের চিৎকারে বেকায়দায় পড়ে গিয়ে অপহরণকারীরা তাকে বগুড়ার মাঝিরা ক্যান্টরমেন্ট এলাকায় মাইক্রোবাস থেকে ফেলে দেয়। স্থানীয় একটি মসজিদের মুসুল্লীরা তাকে অসুস্থ অবস্থায় পান। শাহজাহানপুর থানা পুলিশ তাকে সেখান থেকে উদ্ধারের করে পরিবারের কাছে হস্থান্তর করেন।

এর আগে ২৬ জুন শহরে সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের স্মরণে দোয়া মাহফিলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও কামারখন্দ সরকারি হাজী কোরপ আলী ডিগ্রি কলেজ শাখার সভাপতি বিজয়কে মাথায় কুপিয়ে আহত করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯দিন পর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বড় ভাই রুবেল বাদী হয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলায় বর্তমানে ৩ জন জেলহাজতে রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা