• ই-পেপার

অটোরিকশার সাইড দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নিহত ১

৬ বছরের প্রতিবন্ধী শিশুকে শ্লীলতাহানি, ৫০ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
৬ বছরের প্রতিবন্ধী শিশুকে শ্লীলতাহানি, ৫০ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

কুমিল্লার লাকসামে ৬ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মঙ্গলবার (২৩ জুন) মো. মানিক মিয়া (৫০) নামে এক বৃদ্ধকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত ওই বৃদ্ধ উপজেলার উত্তরদা ইউনিয়নের চন্দনা বড় বাড়ির মৃত আলী মিয়ার ছেলে। ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই বৃদ্ধকে নিজ এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেন।

লাকসাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাবুদ্দিন ওই বৃদ্ধকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

লাকসাম থানা পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২১ জুন) বিকেলে বাকপ্রতিবন্ধী ওই শিশুটি বাড়ির পাশে অভিযুক্ত মো. মানিক মিয়ার দোকানের সামনে যায়। এসময় দোকানদার মানিক মিয়া শিশুটিকে ফুসলিয়ে দোকানের ভেতর নিয়ে শিশুটির স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় এবং শ্লীলতাহানি করে। ওই সময় বাকপ্রতিবন্ধী শিশুটির মা আরেক বাড়ি থেকে ফেরার পথে ওই দোকানে শিশুটিকে কান্না করতে দেখেন। এসময় কি হয়েছে? দোকানদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দেননি। একপর্যায়ে বাকপ্রতিবন্ধী শিশুটি কান্না করতে করতে ওই বৃদ্ধ দোকানদারকে দেখিয়ে ইশারা ইঙ্গিতে তার মাকে শ্লীলতাহানির ঘটনাটি বুঝায়।

শিশুটির মায়ের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানালে তারা বিষয়টি আপস-মিমাংসার লক্ষ্যে অভিযুক্ত দোকানদার মো. মানিক মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে দোকানদার পালিয়ে যান। পরে তিনি এই ঘটনায় বাদি হয়ে সোমবার (২২ জুন) বিকেলে লাকসাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী জানান, বাকপ্রতিবন্ধী শিশুটির মা বাদি হয়ে তার ৬ বছরের মেয়েকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে লাকসাম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ওসি জানান, বুধবার (২৪ জুন) গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হবে।

ওসির নাম ও ছবি ব্যবহার করে টাকা দাবির অভিযোগ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
ওসির নাম ও ছবি ব্যবহার করে টাকা দাবির অভিযোগ
ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন

প্রতারক নিজেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে টাকা দাবি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই প্রতারক মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনের নাম ও ছবি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে টাকা দাবি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতারক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে থানায় অভিযোগ রয়েছে এমন কথা বলে ভীতি সৃষ্টি করে। তাকে অভিযোগ থেকে নাম বাদ দেওয়া হবে এমন কথা বলে ওই প্রতারক মোটা অংকের টাকা দাবি করছেন।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সিঙ্গাপুর প্রবাসী নুরুল ইসলাম খান নামের এক ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপে ওসির নাম ও ছবি ব্যবহার করা একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনকারী প্রতারক নিজেকে মির্জাপুর থানার ওসি পরিচয় দিয়ে নুরুল ইসলামের নামে অভিযোগ রয়েছে বলে জানায়। বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা দাবি করলে নুরুল ইসলামের সন্দেহ হয়। তিনি তাৎক্ষণিক ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে নুরুল ইসলাম হোয়াটসঅ্যাপের স্ক্রিনশট সাংবাদিকদের কাছে পাঠিয়ে সত্যতা যাচাইয়ের অনুরোধ জানান।

এর কয়েকদিন আগে মির্জাপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খানের কাছেও একই কৌশলে টাকা দাবি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলে দেশ-বিদেশে প্রতারণার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। তবে মির্জাপুর উপজেলাসহ দেশ-বিদেশে বসবাসকারী সকলকে সচেতন থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন। পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কেউ টাকা-পয়সা লেনদেন করতে বললে সংশ্লিষ্ট থানায় জানানোর অনুরোধ জানান।

কৃষক কার্ড নিয়ে আলোচনায় আসা সেই কবির হোসেন মারা গেছেন

অনলাইন ডেস্ক
কৃষক কার্ড নিয়ে আলোচনায় আসা সেই কবির হোসেন মারা গেছেন
কবির হোসেন। সংগৃহীত ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড নিয়ে আলোচনায় আসা টাঙ্গাইলের সেই ভাইরাল কৃষক কবির হোসেন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।

কবির হোসেনের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

কেরানীগঞ্জে কাগজের গোডাউনের আগুন ৫ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
কেরানীগঞ্জে কাগজের গোডাউনের আগুন ৫ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকায় একটি কাগজের গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে গোডাউনের বিপুল পরিমাণ কাগজ ও অন্যান্য সামগ্রী পুড়ে গেছে। মালিকপক্ষের দাবি তার প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বনগ্রাম এলাকায় অবস্থিত ‘রুবেল অ্যান্ড সন্স’ নামের একটি কাগজের গোডাউনে আগুনের এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোডাউনটির পাশেই একটি নতুন কারখানার নির্মাণ কাজ চলছিল। সেখানে ওয়েল্ডিং করার সময় আগুনের ফুলকি ছিটকে এসে কাগজের উপর পড়লে সেখান থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারখানার শ্রমিকদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ না করতে তাদেরদের একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তা উপেক্ষা করা হয়।

গোডাউনের মালিক রুবেল হোসেন বলেন, পাশের নির্মাণাধীন কারখানায় অসচেতনভাবে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করার কারণেই তাঁর গোডাউনে আগুন লাগে। এতে করে তার ২০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। “সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।

রাত ১০টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর পোস্তগোলা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা আবু মোহাম্মদ সাজেদুল কবির জোয়ারদার বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে গোডাউনে বিপুল পরিমাণ কাগজ ও প্লাস্টিকজাতীয় সামগ্রী থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি এলাকায় পর্যাপ্ত পানির উৎস না থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়।

তিনি বলেন, প্রায় পাঁচ ঘণ্টার প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাজিদ উল মাহমুদকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটিতে ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা আবু মোহাম্মদ সাজেদুল কবির জোয়ারদার এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদ খানকে সদস্য করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ইউএনও।

অটোরিকশার সাইড দেওয়া নিয়ে সংঘর্ষ, টেঁটাবিদ্ধ হয়ে নিহত ১ | কালের কণ্ঠ