kalerkantho

রবিবার । ১২ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৯ সফর ১৪৪২

জালে ধরা পড়েনি ইলিশ! জেলে-মহাজনদের মাথায় হাত

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

৬ আগস্ট, ২০২০ ১৭:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জালে ধরা পড়েনি ইলিশ! জেলে-মহাজনদের মাথায় হাত

৬৫ দিনের অবরোধ শেষে সাগরে গিয়ে অনেকেই ফিরেছেন ইলিশ শূণ্য ট্রলার নিয়ে। প্রথম ট্রিপে প্রত্যেক মহাজনকে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা করে লোকসান গুণতে হয়েছে। আবার দ্বিতীয় ট্রিপের প্রস্তুতি নিতেই শুরু হয় নিম্নচাপ। বৈরী আবহাওয়ায় সমস্ত ফিশিং ট্রলার অবস্থান করছে উপকূলে।

সাগরে ইলিশ না পাওয়ার ব্যাপারে জেল-মহাজনদের অভিযোগ, বাংলাদেশের নিষিদ্ধ সময়ে ভরতে মাছ ধরা অব্যাহত থাকে। এসময় ভারতের জেলেরা অবাধে এদেশের জলসীমায় ঢুকে অবাধে ইলিশ শিকার করে নিয়ে যায়। একারণে অবরোধ শেষ হলেও বাংলাদেশ সীমানা ইলিশ শূণ্য হয়ে পড়ে। তাদের দাবি, উভয় দেশ একই সময়ে অবরোধ দিলে এককভাবে কোনো দেশ ইলিশ সংকটে পড়বে না। বিশেষজ্ঞরাও মৎসজীবীদের এই যুক্তির সঙ্গে অকেনটা একমত পোষণ করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রায়েন্দা-রাজৈর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শত শত ফিশিং ট্রলার নোঙর করে আছে। বাজারঘাট করে সাগরে যাওয়ার সকল প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছেন জেলেরা। সাগর উত্তাল তাই ট্রলারেই অলস সময় পার করছেন তারা। 

এফবি সাগর-১ ট্রলারের মালিক বিলাশ রায় কালু জানান, তার সোয়া দুই লাখ টাকা খরচ হয় প্রথম ট্রিপে। মাছ পেয়েছেন ৩০০। বিক্রিতে নেমেছে মাত্র ৮০ হাজার টাকা।

শরণখোলা মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সভাপতি মো. দেলোয়ার ফরাজী জানান, তার এফবি রূপসা ট্রলারে খচর হয় দুই লাখ টাকা। কিন্তু গোন শেষে সামান্য কিছু ইলিশ ও বাজে মাছ নিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসে জেলেরা। সেই মাছ বিক্রি করেছেন মাত্র ৬০ হাজার টাকা। প্রথম গোনে (ট্রিপে) তার মতো সব মহাজনেরই লোকসান হয়েছে। 

বাগেরহাট জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি ও জাতীয় মৎস্য সমিতির শরণখোলা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, প্রথম গোনে আমার এফবি মুন্না-১ ও এফবি জিসান-১ নামের দুটি ট্রলার সাগরে পাঠাতে খরচ হয় সাড়ে চার লাখ টাকা। দুটি ট্রলারে ইলিশ ও অন্যান্য সামুদ্রিক মাছ মিলিয়ে বিক্রি হয়েছে দুই লাখ ৭৮ হাজার টাকা। আমার লোকসান গুণতে হয়েছে এক লাখ ৭২ হাজার টাকা।

অনেকেতো টাকার অভাবে সাগরে যেতেই পারবে না। তার ওপর দ্বিতীয় ট্রিপে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতেই সাগরে নিম্নচাপ দেখা দেয়। সাগরে প্রচন্ড ঢেউ হচ্ছে। এ অবস্থা শরণখোলা উপজেলা থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণকারী প্রায় ৬০০ ফিশিং ট্রলার বিভিন্ন ছোট ছোট নদী-খালে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে।

মৎস্যজীবী নেতা আবুল হোসেন বলেন, ৬৫ দিনের অবরোধ শেষে সাগরে প্রচুর ইলিশ পাওয়ার কথা। কিন্তু সাগর একেবারেই ইলিশ শূন্য হয়ে পড়েছে। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে, আমাদের জলসীমায় ঢুকে ভারতের জেলেদের অবাধে মাছ শিকার। তাই দুই দেশে একই সময় অবরোধ দিলে আমাদের এই সংকটে পড়তে হতো না।

এ ব্যাপারে বাগেরহাটের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ডক্টর মো. খালেদ কনক মৎস্যজীবীদের যুক্তিকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, যেহেতু বিষয় একই। তাই বাংলাদেশ, ভারত এবং থাইল্যান্ডের নীতিনির্ধারকরা বসে একই সময়ে ইলিশের অবরোধের সময় নির্ধারণ করলে এককভাবে কোনো দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তাছাড়া, অনেক সময় ইলিশের বিচরণের গতিপথও পরিবর্তিন হয়। ইলিশ না পাওয়ার এটাও একটা কারণ হতে পারে। আবার বর্তমানে সাগরে পানির প্রবাহ বেশি। যার ফলে, জেলেরা গভীরে যেতে না পারায় জালে ইলিশ ধরা পড়ছে না বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা