kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ১ অক্টোবর ২০২০। ১৩ সফর ১৪৪২

ভাড়া দ্বিগুণ হলেও যাত্রী পরিপূর্ণ

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

৫ আগস্ট, ২০২০ ২০:৩০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভাড়া দ্বিগুণ হলেও যাত্রী পরিপূর্ণ

কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকায় বুধবার বেলা পৌনে একটার দিকে বাস (কুমিল্লা ট্রান্সপোর্ট, ঢাকা মেট্রো ব ১১- ১১৭৪) থেকে নেমে সারা শরীরে স্প্রে করছিলেন এক ব্যক্তি। এগিয়ে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে জানতে চাইলেই বললেন, ‘বাসে আরেকজনের গা ঘেঁষে বসতে হয়েছে। সতর্কতা হিসেবে স্প্রে করে নিচ্ছি।’

নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার মো. তাজ নূর নামে ওই ব্যক্তি জানালেন, কুমিল্লা থেকে দ্বিগুণ ভাড়া ৩০০ টাকা দিয়ে সুলতানপুর এসে নামেন। কথা ছিল প্রতি দুই সিটে একজন করে যাত্রী নেওয়া হবে। কিন্তু বাস পরিপূর্ণ করেই যাত্রী আনা হয়। প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হয়নি। 

একই এলাকায় বিআরটিসি বাস (১১- ৫৫২০) থেকে পরিবার নিয়ে নামেন চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ উপজেলার মো. ফয়জুল্লাহ। আখাউড়ার আজমপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে নামা ওই ব্যক্তি জানালেন, মৌলভীবাজারের জুড়ি অভিমুখী ওই বাসে উঠেন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ থেকে। জনপ্রতি প্রায় দ্বিগুণ ৬০০ টাকা ভাড়ায় উঠলেও বাসে স্বাস্থ্যবিধির বলাই ছিল না। সব সিটেই পাশাপাশি করে লোক বসানো হয়।

বুধবার সুলতানপুর ছাড়াও ভাদুঘর, কাউতলী, পৈরতলা, বিশ্বরোড মোড়ে সরজমিনে ঘুরে বাসে যাত্রী পরিবহনের নৈরাজ্য লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা-সিলেট, কুমিল্লা-সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ঢাকা ছাড়াও জেলার আভ্যন্তরীণ বাসগুলোতেও স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই ছিল না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতি দুই সিটে এক যাত্রী বসানোর কথা বলে দেড় থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হলেও এসবে যেন থোরাই কেয়ার। যাত্রীরা প্রতিবাদ করে এর কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ মিয়া বলছেন ভিন্ন কথা। বুধবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে তিনি জানান, সরকারিভাবে আমাদেরকে ভাড়া বৃদ্ধি ও যাত্রীর পরিবহনের বিষয়ে যে নিয়ম করে দেওয়া হয়েছে সেটা মেনে বাস চলাচল করছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটে যাচ্ছে। বিশেষ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো কম ভাড়ায় আগের মতো বেশি যাত্রী পরিবহন করছে বলে অনেকে বাসে চড়তে চাচ্ছে না। যে কারণে ঈদকে সামনে রেখে কেউ কেউ হয়তো কিছু ক্ষেত্রে বাড়তি যাত্রী পরিবহন করছে।

বেলা পৌনে দুইটার দিকে বিশ্বরোড মোড়ে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকাগামী, সোহাগ, তিশা, রয়েল কোচ ইকোনো, উত্তরা, তিতাসসহ বেশ কিছু পরিবহনের বাস যাত্রাবিরতি দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কাউন্টার থেকে ঢাকার যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া রাখা হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে লোক উঠানো হচ্ছে কি-না যাত্রীদের এমন প্রশ্নে বলে দেওয়া হচ্ছে, এসব কোথাও নাই!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ঢাকা পথের ইকোনো পরিবহনের (ঢাকা মেট্রো ব ১১-৫৫৮৩) বাসে উঠে দেখা যায়, সামনে থেকে প্রায় শেষের সারি পর্যন্ত যাত্রী প্রায় পরিপূর্ণ। দুইজনের সিটে দুইজন করেই বসানো আছে। যাত্রীদের অনেকেই এ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করলেও প্রতিবাদ করা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন।

টিকিট কাউন্টারে গিয়ে তদারকিতে থাকা নিজেকে মাফিজুল পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, ‘ঈদের সময় ঢাকা যাওয়ার পথে যাত্রী থাকলেও ফিরত হয় খালি। যে কারণে সব খরচ মিটিয়ে লোকসান হয়। সরকার যে নিয়ম বেধে দিয়েছে তাতে বাস চলানো সম্ভব না। অনেক যাত্রীই অতিরিক্ত ভাড়া দিতে চায় না। আগে দুই মাস বন্ধ রাখছি। সরকার চাইলে আবারো বন্ধ করে দেব। সরকার সড়কে বাস নামিয়ে দিক।’

কথা হয়, ঢাকা-সিলেট-সুনামগঞ্জ পথের নিউ লাইন বাসের (ঢাকা মেট্রো ব ১৫-০২৮৯) চালক মো. আলমগীরের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘যাত্রীরা দেড়গুণ ভাড়ায় উঠতে চায় না। তাই ভাড়া কম নিয়ে নিয়মের বেশি যাত্রী উঠাতে হয়। এছাড়া একই পরিবারের লোক হলে পাশাপাশি বসতে দেওয়া হয়।’

সুলতানপুর এলাকায় কথা হলে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-কুটি পথের লোকাল বাস দিগন্ত (কুমিল্লা ব ০৫-০০৪৭) এর সহযোগী তাপস জানান, একই পরিবারের লোক হলে পাশাপাশি সিটে বসাচ্ছেন। এর বাইরে কাউকে পাশাপাশি সিটে বসতে দেন না দাবি করলেও পুরো বাসের প্রতি দুজনের সিটেই দু’জন করে বসতে দেখা যায়।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ি ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ করছে। এ বিষয়ে অভিযান আরো জোরদার করা হবে।’  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা