kalerkantho

রবিবার। ৫ আশ্বিন ১৪২৭ । ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০। ২ সফর ১৪৪২

সন্ধ্যায় যুবকের ওপর হামলা, রাতে বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি   

৫ আগস্ট, ২০২০ ১৯:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সন্ধ্যায় যুবকের ওপর হামলা, রাতে বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট

নরসিংদীর রায়পুরায় পূর্বশত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় মো. রাসেল মিয়া (২২) নামে এক যুবক আহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাড়াতলী বাজারে একটি স’মিলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাত ৯টায় ওই যুবকের বাড়ির লোকজন সাচিয়াপাড়া গ্রামে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালায়। তখন তাদের হামলার শিকার হন মো. শফিক মিয়া (৩৫) নামে এক পথচারী।

আহত রাসেল পাড়াতলীর সোনাবালুয়া গ্রামের ড্রেজার ব্যবসায়ী মো. বাচ্চু মিয়ার ছেলে। শফিক একই এলাকার কড়ইপুরের মৃত জামাল মিয়ার ছেলে। আহত দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে খবর পেয়ে রায়পুরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩০ জুলাই সাচিয়াপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালিব মিয়ার ছেলে ভ্যানচালক হোসেন মিয়া সোনাবালুয়া থেকে বাড়ি ফিরছিল। জুম্মার দিন হওয়া ওই সময় সোনাবালুয়া মসজিদের ভেতরে ও বাহিরের রাস্তায় মুসল্লিরা নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখন রাস্তা দিয়ে ভ্যানগাড়ি নিয়ে যেতে চাইলে রাসেল ওই চালককে বলেন নামাজের শেষে যেতে। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক হয়। এক পর্যায়ে রাসেল ওই ভ্যানচালকে চড়-থাপ্পর দেয়। এ ঘটনার পর ঈদ উল আজহার দ্বিতীয় দিনে উভয় পক্ষের লোকজন বসে বিষয়টি মীমাংসার করে দেওয়ার কথা হয়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাসেল তার এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে পাড়াতলী বাজারে আসেন। বাজারের স’মিলের সামনে আসা মাত্রই রাসেলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ভ্যানচালক হোসেন ও তার লোকজন। ছিনিয়ে নিয়ে যায় তার সাথে থাকা নগদ অর্থ ও একটি মোবাইল।

খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এই ঘটনার ক্ষুব্ধ হয়ে রাত নয়টায় রাসেলের বাড়ির লোকজন লাঠি-সোটা নিয়ে ভ্যালচালক ও তার স্বজনদের ১০টি বসতঘর ও ১টি দোকানে ভাঙচুর চালায় এবং আসবাপত্র, নগদ অর্থ ও স্বর্ণ অলংকার লুটের ঘটনা ঘটে। তখন তাদের হামলায় শফিক মিয়া নামে এক পথচারী আহত হন।

ভ্যানচালক হোসেন বলেন, রাসেলের বাবা বাচ্চু মিয়া আশপাশের তিন গ্রাম থেকে ভাড়াটে সস্ত্রাসী এনে রাতে বাড়িঘরে হামলা করে আসবাপত্র ভাঙচুর ও নগদ অর্থ, গহনা লুট করে নিয়ে গেছে। অপরদিকে বাচ্চু মিয়া বলেন, হোসেন ও তার লোকজন আমার রাসেলকে নির্মমভাবে মেরেছে। ছেলে এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ছেলে ঢাকা নিয়ে যেতে পরামর্শ দিয়েছেন ডাক্তারা। তিনি আরো বলেন, রাতে খবর পেয়ে ছেলেকে উদ্ধার করতে যায়। তবে প্রতিপক্ষের বাড়িতে কে বা কারা হামলা ও লুটপাট করেছে এ ব্যাপারে কিছুই জানেন বলেন জানান তিনি।

রায়পুরা থানার ইনচার্জ মহসিনুল কাদির বলেন, এ ঘটনায় দুটি পক্ষের কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা