kalerkantho

শুক্রবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৭ সফর ১৪৪২

লেবাননে বিস্ফোরণ : লাশ হয়ে আসবে রনি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

৫ আগস্ট, ২০২০ ১৬:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লেবাননে বিস্ফোরণ : লাশ হয়ে আসবে রনি

মার্চে দেশে আসার কথা ছিলো মেহেদী হাসান রনির। সেই মোতাবেক দুই ভাগ্নির জন্য চকলেট ও খেলনা কিনে রাখেন। বাড়ির অন্যদের জন্যও কিনে রাখেন নানান কিছু। করোনা পরিস্থিতিতে রনি দেশে আসতে পারেনি। রনি এখন আসবে। তবে কেনাকাটা নিয়ে নয়, লাশ হয়ে ফিরবে রনি।

রানির ছোট বোন জেসমিন আক্তার হ্যাপি জানান, লেবাননে বিস্ফোরণের পর শুনেছেন তাঁর ভাইকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নামাজ পড়ে দোয়া আদায় করে ভাইয়ের প্রাণ ভিক্ষা চান। আল্লাহ্কে বলেন, তুমি আমার ভাইয়ের পা নাও, হাত নাও কিন্তু অন্তরটা নিও না। বুধবার ভোরে শুনে রনি বেঁচে নেই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাছিহাতা ইউনিয়নের ভাদেশ্বরা গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে রনি মঙ্গলবার  লেবাননের বৈরুতে জোড়া বিস্ফোরণের ঘটনায় মারা গেছেন। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বাবা তাজুল ইসলাম। আর মা ইনারা বেগম ছেলের মৃত্যুর সংবাদ পেয়েই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। স্বজনদের চোখেও পানি।

রনির পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন রনি। গ্রামের একটি স্কুলে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। কিন্তু দারিদ্রের কারণে পড়াশোনা বেশিদূর এগোয়নি। বাহরাইন প্রবাসী বাবা তাজুল ইসলাম প্রবাসে সুবিধা করতে না পারায় পরিবারের কথা ভেবে রনি বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আর্থিক দৈন্যদশার কারণে সুদে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ লেবাননে পাড়ি জমান রনি। এর মধ্যে রনির বাবা তাজুল ইসলামও বাহরাইন থেকে দেশে ফেরত আসেন। তবে পরিবারের জন্য হাসিমুখেই কাজ করে যাচ্ছিলেন রনি। লেবাবনের বৈরুতে একটি বিপনী বিতানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন তিনি। 

রনির বাবা তাজুল ইসলাম জানান, গতকাল সন্ধ্যায় সর্বশেষ ছেলে রনির সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়েছে তার। বাবার সঙ্গে কথা বলে মায়ের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি রনির সঙ্গে। রাতে রনির এক সহকর্মী ফোন করে জানান তিনি অসুস্থ্য, তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরপর বুধবার ভোরে আবার ফোন করে জানান রনি মারা গেছেন। এখন ছেলের মরদেহ দেশে আনার দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে।

রনির বোন হ্যাপি বলেন, এখন আমার ভাইয়ের মরদেহটা চাই।

মাছিহাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল আমিনুল হক পাভেল বলেন, ঘটনার পর থেকেই আমি রনির পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। মরদেহ দেশে আনার জন্য কিছু নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। সেজন্য আমরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করছি। মরদেহ আনার জন্য সকল ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা