kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

বৃষ্টি হলেই পানিবন্দি দুই গ্রাম, নিষ্কাশনের পথ নেই

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

৫ আগস্ট, ২০২০ ১২:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বৃষ্টি হলেই পানিবন্দি দুই গ্রাম, নিষ্কাশনের পথ নেই

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পশ্চিম কুজাইল ও চক-নয়াপাড়া গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধ অবস্থায় জীবন যাপন করছেন কয়েক বছর ধরে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলেই গ্রামের চলাচলের সড়ক ডুবে যায়। জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে দুই শতাধিক বাড়ি-ঘর। এ অবস্থা চলছে ৪-৫ বছর ধরে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুমে উপজেলার পশ্চিম কুজাইল ও চক-নয়াপাড়া গ্রামের বৃষ্টির পানি পার্শ্ববর্তী ক্ষেতলাল উপজেলার সীমানা দিয়ে অপসারিত হয়ে আসছে যুগযুগান্তর থেকে। কিন্তু ক্ষেতলাল সীমান্তে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে অপরিকল্পিতভাবে এক ব্যক্তি বাড়ি নির্মাণ করার পর থেকে এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এবিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। স্থানীয় জিন্দারপুর ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করার পর চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া কয়েক দফা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে সেই থেকে জলমগ্ন অবস্থায় বসবাস করছেন গ্রাম দুটোর দুই শতাধিক পরিবারের প্রায় সহস্রাধিক মানুষ।

মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানিতে ডুবে আছে পশ্চিম কুজাইল ও চক-নয়াপাড়া গ্রামে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক। ডুবে আছে বেশকিছু বাড়ি-ঘরও। এছাড়া সারা বছর ঘর গৃহস্থালির অপসারণ করা পানি প্রবাহের নর্দমাগুলোও ডুবে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ডুবে থাকার কারণে একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পশ্চিম কুজাইল সালাফিয়া মাদরাসায় শিক্ষাদানে ঘটছে চরম ব্যাঘাত। সড়ক ও মাদরাসা জলাবদ্ধতার কারণে বর্ষা মৌসুমে শিশু শিক্ষার্থীরা মাদরাসায় আসতে পারে না। দীর্ঘসময় পানিবন্দি হয়ে থাকার ফলে ওইসব পরিবারের সদস্যরা পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। সড়ক ডুবে থাকার ফলে কৃষকদের উৎপাদিত ধান আলু ও অন্যান্য কৃষি পণ্যও হাট-বাজারে নিয়ে যেতে নানা সমস্যায় পড়তে হয় গ্রামের কৃষকদের।

স্থানীয় জিন্দারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিয়া গ্রামবাসীদের কষ্টের কথা স্বীকার করে বলেন, গ্রাম দুটো কালাই উপজেলার হলেও পানি নিষ্কাশনের পথটি ক্ষেতলাল পৌরসভা সীমানার মধ্যে। এ ব্যাপারে ক্ষেতলাল পৌরসভা মেয়রের সাথে যোগাযোগ করা হলেও সহযোগিতা না করায় বিষয়টি সুরাহা করা সম্ভব হয়নি। 

ক্ষেতলাল পৌরসভার মেয়র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ওই গ্রামগুলোর পানি নিষ্কাশনের আগের যে পথ সেটির জমি ভরাট করে এখন তারা যে পথে পানি নিষ্কাশন করার কথা বলছেন সেখানে বাড়ি-ঘর নির্মাণ হয়েছে। বাড়ি-ঘর ভেঙে দিয়ে কি পানি নিষ্কাশনের পথ বের করা সম্ভব?

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে অপরিকল্পিতভাবে ঘর-বাড়ি নির্মাণ করার ফলেই এধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা