kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ১ অক্টোবর ২০২০। ১৩ সফর ১৪৪২

প্রতিবাদ করায় প্রতিবেশীকে কুপিয়ে জখম

বখাটেদের উৎপাত ও বাবাকে লাঞ্ছনা, মেয়ের আত্মহত্যাচেষ্টা

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

৫ আগস্ট, ২০২০ ০৯:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বখাটেদের উৎপাত ও বাবাকে লাঞ্ছনা, মেয়ের আত্মহত্যাচেষ্টা

কুড়িগ্রামের উলিপুরে বখাটেরা মেয়েকে জোড়পূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা এবং বাবাকে শারীরিক ভাবে মারপিটের অপমান সইতে না পেরে এক শিক্ষার্থী বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার পৌরএলাকার নারিকেলবাড়ি তেলিপাড়া গ্রামে। সে নারিকেলবাড়ি পন্ডিত মহির উদ্দিন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। এঘটনায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

পারিবারিক ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের জুলফিকার আলী মানিকের কন্যা (১৫) কে একই গ্রামের জেয়াদুল হকের পুত্র শেখ ফরিদ (২১) তার বন্ধু আকবর আলী ভেদুর পুত্র সেনা মিয়ার (২০) সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিষয়টি ওই শিক্ষার্থী তার বাবা-মাকে জানায়। পরে শিক্ষার্থীর পিতা জুলফিকার আলী মানিক বখাটেদের পরিবারের লোকজনকে জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এরই জের ধরে গত সোমবার সকাল ১১টার দিকে শেখ ফরিদ, সেনা মিয়াসহ প্রায় ১৭-১৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল মানিক মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এসময় মানিক মিয়া বাধা দিলে দূর্বৃত্ত্রা তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে তারা নানা ভয়-ভীতি দেখিয়ে চলে যায়।

বখাটেদের উৎপাত এবং বাবাকে শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনা সইতে না পেরে রাগে ক্ষোভে ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই শিক্ষঅর্থী সবার অজান্তে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানকার কর্মরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এরপরও বখাটের দল ওই দিন বিকেলে কয়েক দফা ভুক্তভোগী পরিবারটির ওপর হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে।

এদিকে, এঘটনার প্রতিবাদ করায় ওই দিন সন্ধ্যায় প্রতিবেশী আব্দুল হাকিমের পুত্র মিলন মিয়াকে কুপিয়ে জখম করে ওই দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

এঘটনার প্রতিকার চেয়ে সোমবার রাতেই ওই শিক্ষার্থীর পিতা জুলফিকার আলী মানিক নামীয় ৯ জন ও অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনের নামে উলিপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। তিনি জানান, শেখ ফরিদ ও সেনা মিয়া দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছে। আমি বিষয়টি তাদের বাবা-মাকে জানালে গত সোমবার তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে আমার পরিবারের লোকজনকে মারপিট করে। এ অপমান সইতে না পেরে আমার মেয়ে বিষপান করে। আমি এর বিচার চাই।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতার্ ডা. সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের অবস্থার অবনতি হলে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। উলিপুর থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এজাহার পেয়েছি, মামলার প্রস্ততি চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা