রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রশাসন ও রাকসু’র যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত নতুন রিকশা ভাড়ার তালিকা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন রুটে ভাড়া বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে তারা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের দাবি, নতুন তালিকায় স্বল্প দূরত্বের কয়েকটি রুটে অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যয় বেড়ে যাবে। এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে আপত্তি থাকা রুটগুলোর ভাড়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি প্রধান প্রবেশদ্বারসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে নতুন ভাড়ার তালিকা টানিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নির্ধারিত ভাড়া কার্যকরে ক্যাম্পাসজুড়ে মাইকিংও করা হয়। এর আগে গত ৪ জুলাই প্রক্টর দপ্তরে রিকশাচালকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রাকসু নেতারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রিকশা ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি থাকলেও নতুন তালিকায় উল্টো কিছু রুটে ভাড়া বেড়েছে। বিশেষ করে কাছাকাছি গন্তব্যের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়া বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তারা মনে করছেন।
পরিসংখ্যান বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী কৌশিক কুন্ডু কাব্য বলেন, ‘আমি ক্যাম্পাসসংলগ্ন আমজাদের মোড় এলাকায় থাকি। আগে আমজাদের মোড় থেকে তৃতীয় বিজ্ঞান ভবন পর্যন্ত দুজন মিলে রিকশায় ২০ টাকা ভাড়া দিতাম। এখন বিনোদপুর গেট থেকেই ন্যূনতম ভাড়া ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দূরত্ব বিবেচনায় এটি কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।’
নাট্যকলা বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সাদেক রহমান বলেন, ‘ভাড়া পুনর্নির্ধারণের আগে শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়া উচিত ছিল। রাকসুর উচিত ছিল বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা। কিন্তু আমরা জানতে পারলাম না কখন, কিভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়নি।’
এ বিষয়ে রাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) এস এম সালমান সাব্বির বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মতামত এবং রিকশাচালকদের সঙ্গে আলোচনা করেই ভাড়া পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, শিক্ষার্থীরা যেন পূর্বনির্ধারিত যৌক্তিক ভাড়াই পরিশোধ করেন। কোনোভাবেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি বা কম নেওয়া উচিত নয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৩৬টি পয়েন্টে ভাড়া নির্ধারণ করা সহজ নয়। যেসব রুটের ভাড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ রয়েছে, সেগুলো আমরা পুনর্বিবেচনা করছি। প্রয়োজনীয় সংশোধন করে খুব শিগগিরই নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করা হবে।’




