kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০। ১১ সফর ১৪৪২

ঈদ আনন্দে ব্যতিক্রমী 'মেহমানখানা'

নীলফামারী প্রতিনিধি   

৩ আগস্ট, ২০২০ ২১:০৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঈদ আনন্দে ব্যতিক্রমী 'মেহমানখানা'

খাবারের মেনুতে পোলাও-মাংস, ডিম, ডাল, মিষ্টি ও কোমল পানীয়। অতিথিরা এলেন এবং দুপুরের খাবার খেলেন তৃপ্তিভরে। শুধু খাবার খেয়েই তৃপ্ত নয়, তারা মুগ্ধ হলেন আয়োজকদের আতিথিয়তার আন্তরিকতায়। ওই আয়োজনের যারা অতিথি ঈদের দিনে তাদের ভাগ্যে জোটেনি ভালো খাবার। দিনটিতে সকলে আনন্দ করলেও তারা রয়েই গেছেন অতৃপ্ত।

নীলফামারীর শেখ কামাল স্টেডিয়ামে সেইফ ফাউন্ডেশন নামের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা আজ এসব মানুষের জন্য মেহমানখানার আয়োজনে করলেন ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি। ওই আয়োজনের প্রথম দিনের অতিথি ছিলেন ৬০০ জন। তিন দিনব্যাপী তাদের ওই মেহমানখানায় অতিথি হবেন দুই হাজার ৪০০ জন। এসব অতিথি সকলেই নিম্ন আয়ের। রয়েছেন ছিন্নমূলসহ এতিম সন্তানরা। রয়েছেন রিকসাচালকসহ অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষ।

ওই মেহমানখানায় আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন, করোনা কালে ক্ষুদ্র ব্যবসা হারিয়ে বেকার হয়ে পড়া জেলা শহরের শাহিপাড়ার নজরুল ইসলাম (৬০)। তিনি এসেছিলেন তার আদরের সাত বছর বয়সের নাতিকে নিয়ে। খাবার খেয়ে তিনি বলেন, ঈদের দিনে ভালো খাবার জোটেনি। নাতিটাকেও খাওয়াতে পারিনি। তাই নাতিটাকে নিয়ে আসলাম। অনেক দিন পর তৃপ্তি সহকারে ভালো খাবার খেলাম।

জেলা শহরের রিকসাচালক মনছুর আলম (৩২) বলেন, করোনা দূর্যোগের পর থেকে খুব দূর্দিন যাচ্ছে আমাদের। এসময়ে ভালো খাবারতো দূরের কথা সাধারণ খাওয়াও পাইনি পেটপুড়ে। আজকে খেয়ে অনেক দিনের ভালো কিছু খাওয়ার সাধ পূরণ হলো।

একই কথা বলেন সেখানে আগত শুকুর আলী (৪৫), বদরুল ইসলাম (৫৫), কামাল হেসেনসহ (৩৫) অনেকে। তারা সকলে ঈদে ভালো খাওয়া জোটাতে না পেরে ঈদ আনন্দ থেকে ছিলেন অতৃপ্ত।

সেইফ ফাউন্ডেশনের প্রধান সম্বয়কারী রাসেল আমীন স্বপন বলেন, ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে করতে আমাদের ওই আয়োজন। তিন দিনের আয়োজনে দুপুরের খাবার খাবেন দুই হাজার ৪০০ অতিথি। আর আমাদের আমন্ত্রিত অতিথি রিকসাচালক, ভ্যানচালক, এতিম, ছিন্নমূল মানুষসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। তালিকা তৈরি করে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাদেরকে। আমন্ত্রিত অতিথি সাথে নিয়ে আসতে পারবেন পরিবারের একজনকে। ৫ আগস্ট দুপুরের খাবারের পর সমাপ্ত হবে আমাদের ওই মেহমানখানা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা