kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ । ১ অক্টোবর ২০২০। ১৩ সফর ১৪৪২

দাম নেই চামড়ার, দুঃখ বাড়বে এতিমদের

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

৩ আগস্ট, ২০২০ ১৬:৫৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দাম নেই চামড়ার, দুঃখ বাড়বে এতিমদের

'প্রত্যেক বার ঈদের পর চামড়ার কিছু টাকা পাই, এবার পালাম না বাবা।' কথাগুলো আক্ষেপ করে বললেন বেনাপোলের বারোপোতা গ্রামের আল্লাদি বিবি (৮৫)। একইভাবে শার্শা উপজেলার বড়বাড়িয়া গ্রামের ভিখারি সজ্জোত আলি (৯০) বলেন, চামড়ার কডা টাকা পাতাম, তাও পালাম না। কচ্ছে চামড়া বিক্রি নেই। 

এদিকে মাদরাসা এতিমখানার কর্তৃপক্ষরা বলছেন বছরের তিন থেকে চার মাসের ব্যয়ের অর্থ কোরবানির চামড়া বিক্রি থেকে আসত। এবার চামড়ার দাম কম হওয়ায় সেটা সম্ভব হবে না। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও থাকা-খাওয়ায় ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

কোরবানির চামড়ার দাম না থাকায় এতিমখানা ও কওমি মাদরাসাগুলো বিপাকে পড়ার শঙ্কা দেখছেন সংশ্লিষ্ট অনেকে। এতিমখানা, হেফজ খানা ও কওমি মাদরাসার অর্থের বড় একটা যোগান আসে কোরবানির চামড়া বিক্রি থেকে। 

যশোরের শার্শা ও বেনাপোলের ভুক্তভোগীরা বলছেন, বরাবরের মতো চামড়া পেলেও এবার দাম কম হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছে এ প্রতিষ্ঠানগুলো।

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআচড়া হেফজোখানার তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা খায়রুল বাসার জানান, তাদের দরিদ্র, অসহায়, এতিম শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানের লিল্লাহ বোর্ডিং থেকে বিনামূল্যে খাবার দেওয়া হয়। বছরের তিন থেকে চার মাসের ব্যয়ের অর্থ কোরবানির চামড়া বিক্রি থেকে আসত জানিয়ে তিনি বলেন, এবার চামড়ার দাম কম হওয়ায় সেটা সম্ভব হবে না। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ও থাকা-খাওয়ায় ব্যাঘাত ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

শার্শার সামটা মুসলিম এতিমখানার সভাপতি লিয়াকত আলি জানান, চামড়ার দাম কম হওয়ায় এতিমখানার বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। চামড়া থেকে আসা অর্থ দরিদ্র, অসহায়, এতিম শিক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়া ও লেখাপড়ায় ব্যয় করা হত। এবার হয়তো সেটা আর হবে না।

ওই এতিমখানার তত্ত্বাবধায়ক আবুল বাসার জানান, এ ঈদে তারা ২৭৭টি চামড়া চামড়া পেলেও ক্রেতা না পেয়ে এক আড়তে দিয়ে এসেছেন। বাজার দর অনুযায়ী টাকা দেওয়ার আশ্বাস মিলেছে তাদের।

নাভারনের সিরামকাটি ওয়ালুম কওমি হাফিজিয়া মাদরাসা প্রধান আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, নাভারন কাজিরবেড় ও সিরামকাটি গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের কোরবানির চামড়া তারা পেয়ে থাকেন। এবার গরুর চামড়া পেয়েছি ১১২টি আর খাসির ২০৫টি। বেচাবিক্রির চেষ্টা করছি কিন্তু এখনো বেঁচতি পারিনি।

বেনাপোল বাজার এতিম খানার প্রধান মাওলানা আবুল হোসেন বলেন, এটা হয়তো খুব বেশি বড় নয় কিন্তু তারপরও চামড়া বিক্রির খাত থেকে টাকা আসত। এবার কোরবানি কম হওয়ায় চামড়া সংগ্রহও কমেছে এবং তারপরও সেটার দাম নেই বলেও জানান তিনি।

বেনাপোলের বালুন্ডা হাইস্কুলের শিক্ষক মিজানুর রহমান কোরবানির ছাগলের চামড়ার ক্রেতা না পেয়ে মাটিতে পুতে ফেলেছেন। একই এলাকার মাংস বিক্রেতা রেজাউল ইসলাম কোরবানি ঈদে গ্রাম থেকে চামড়া কিনে থাকেন। এবারও কিনেছেন তবে সতর্কতার সাথে বলে জানালেন তিনি।
এবার ৮৩টি গরুরসহ ১৬০টি চামড়া কেনার পর রেজাউল ইসলাম বলেন, গরুর চামড়া প্রতিটি ৭০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম দিছি। ছাগলের চামড়া কিনিছি ১৫/২০ টাকায়। কিছু চামড়া লোক দেছে বিক্রি করতি পারলি তারা টাকা পাবে এই শর্তে। আড়তদাররা ৩০/৪০ টাকা দাম বলছে। এখন দেখি মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা।

উপজেলার নাভারন বাজারে চামড়া বেচাকেনা করেন মির্জাপুর গ্রামের শফিউর রহমান এবং দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের চঞ্চল হোসেন বলেন, ঢাকার ট্যানারি মালিকরা চামড়ানিচ্ছে না শুনে তারা চামড়া কেনার সাহস হারিয়েছেন। বড় গরুর চামড়া এক-দেড়শ টাকা থেকে দুইশ টাকায় কিনছেন। ছাগলের চামড়ার দাম ২০ টাকার উপরে কেনেননি। অনেকে ছাগলের চামড়া ফেলে রেখে চলে যাচ্ছে বলেও জানান তারা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা