kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

করোনায় বিপর্যস্ত 'স্বপ্ন', হাল ছেড়ে দেবেন রুমা...?

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২ আগস্ট, ২০২০ ১৮:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় বিপর্যস্ত 'স্বপ্ন', হাল ছেড়ে দেবেন রুমা...?

করোনার আগে একটা স্বপ্ন নিয়ে এগোচ্ছিলেন রুমা আক্তার (২২)। স্বপ্নটা নিজের পায়ে দাঁড়ানোর। কিন্তু গত ছয়মাসে ঋণের বোঝা পাহাড়সম হচ্ছে। এখন আর কূলোতে পারছেন না। প্রতিমাসে ঋণের কিস্তি দিতে না পারায় নারী উদ্যোক্তা এই রুমা হাল ছেড়ে দিতে চেয়েছেন। ব্যাংকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ঋণ পাচ্ছেন না। তাঁর একটাই প্রশ্ন তাহলে ব্যাংক ঋণ দেয় কাকে।

আট বছরের সংসার জীবনে তাঁর রয়েছে দুই সন্তান। বিবাহ বিচ্ছেদের পর দুই সন্তানকে নিয়ে যায় স্বামী। কূলকিনারা হারিয়ে সহায় সম্বলহীন রুমা নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে সফলাতার পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন। বিদেশী একটি গরু কিনে তা থেকে দুই বছরের ব্যবধানে আরও পাঁচটি গরু বাড়িয়ে সঠিক পথে এগোচ্ছিলেন। এ অবস্থায় করোনার মহামারিতে ছয় গরুর প্রায় ৪৫ কেজি দুধ বিক্রি করতে না পেরে পড়েছেন বেকায়দায়। ক্ষোভে কষ্টে সেই দুধ ফেলে দিচ্ছেন বাড়ির পাশে খালে।

এই রুমা আক্তার হচ্ছেন, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের বালিহাটা গ্রামের রুহুল আমীনের মেয়ে। রুমা আক্তার জানান, চার বোনের মধ্যে তিনি ছোট। কর্মজীবি মা-বাবার কাছে ছোট বেলা থেকেই ঢাকায় অবস্থান করেছেন। সেখানে একটি পোশাক কারখানায় চাকুরির সুবাধে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার এক যুবককে বিয়ে করেন। এক বছরের মাথায় যৌতুক লোভী স্বামীর অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে চলে যান মালয়েশিয়ায়। 
সেখান থেকে দুই বছর পর দেশে এলেও তাঁর জমানো সকল টাকা নিয়ে যায় স্বামী। এর মধ্যে দুই সন্তানের জন্ম হলে ঢাকা ছেড়ে চলে যান স্বামীর গ্রামের বাড়িতে। আবারও স্বামীর যৌতুক চাহিদা। না দিতে পারায় চলে অমানবিক নির্যাতন। একপর্যায়ে গোপনে তালাক দেয় রুমাকে। 

পরে নিজের গচ্ছিত, ঘরের ফার্নিচার বিক্রি ও ঋণ করে প্রায় দুই লাখ টাকা দিয়ে কেনেন একটি বিদেশি গাভী। দুই বছরের মাথায় আরও তিনটি গরু ক্রয় করে তাকে পেছনে তাকাতে হয়নি। দুধ বিক্রির টাকা দিয়েই ঋণ সুদ করেও একটা স্বপ্ন নিয়ে এগোচ্ছিলেন। কিন্তু বাধ সাধে করোনা। প্রতিদিনই অবিক্রিত থাকে প্রায় ৩০/৩৫ কেজি দুধ। একদিকে গরুর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা। অন্যদিকে গরুর চিকিৎসা ব্যয় মিটানো এখন খুবই ঝুকিঁপূর্ণ হয়েছে। যে কোনো সময় তাঁর সপ্নের গরুগুলো বিক্রি করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।

রুমা আক্তার বলেন, আমি কারো দ্বারস্থ হতে চাইনি। নিজের সহায় সম্বল বিক্রি করে ধারদেনা নিয়ে এগুচ্ছিলাম। কঠোর পরিশ্রম করে সফলতার পথও দেখছিলাম। এখন গত ছয় মাস ধরে দুধ বিক্রি করতে না পারায় ফের ধারদেনা করে গরুগুলো টিকিয়ে রাখছি। এই অবস্থায় কোনো ব্যাংক ঋণ না পেলে হয়তো অচিরেই আমার সকল স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে। আমি হয়তো পথে বসবো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা