kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার রায়হানের বাড়িতে ঈদ উৎসব নেই

আমার সোনা মানিককে আমার বুকে ফিরিয়ে দাও

দিলীপ কুমার মণ্ডল, নারায়ণগঞ্জ   

২ আগস্ট, ২০২০ ১৭:৫১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আমার সোনা মানিককে আমার বুকে ফিরিয়ে দাও

‘আমার সোনা মানিককে আমার বুকে ফিরিয়ে দাও। আমার ছেলে কোনো অন্যায় করে নাই। ও সত্য কথা বলেছে। মালয়েশিয়ায় বাঙালিদের প্রতি যে অবিচার করা হয় সেই সত্যটা তুলে ধরেছে।’

এমন আহাজারি করে গত ১০ দিন ধরে অঝোরে কাঁদছেন মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার নারায়ণগঞ্জ বন্দরের ছেলে রায়হান কবীরের মা রাশিদা বেগম। ছেলের জন্য কাঁদতে কাঁদতে চোখে এখন ঝাপসা দেখেন তিনি। ঈদ উৎসব নেই তাদের পরিবারে।

আজ রবিবার দুপুরে বন্দরের শাহী মসজিদ এলাকার পল্লী বিদ্যুৎ মোড় এলাকায় রায়হানদের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, নিরব নিস্তব্ধ পুরো বাড়ি। নেই ঈদ উৎসব। কোনো কোরবানি। হরেক রকমের রান্নার আয়োজনও নেই। 

রায়হানের মা খাটের ওপর ছেলের পোশাক ও ছবি নিয়ে স্মৃতি হাতরিয়ে বিলাপ করছেন। কয়েকজন প্রতিবেশী সান্তনা দিতে গিয়ে তারাও ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। পাশেই বাবা শাহ আলম চুপচাপ বসা। মনে হয় তাঁর বুকে বিশাল কোনো পাথর চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। এমন কষ্ট নিয়ে শুধু ঈদের নামাজটুকু পড়েছেন। একমাত্র বোন মেহেরুননেছা ঈদের আনন্দ ভুলে প্রিয় ভাইয়ের জন্য নামাজ শেষে দোয়া করেছেন।

মা রাশিদা বেগম কালের কণ্ঠকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছবি দেখি পোলারে তো দেখি না। কী হচ্ছে ওর লগে আল্লাহই জানে। সবাই কয় আইব। কবে আইব হেইডা কয় না। ঈদ কী করছি। ঈদের দিন পান্তা ভাত খাইছি। ছেলে কইছিল আম্মা ভালো একটা চাকরি পাইছি। টাকা পাঠাইলে একটা কোরবানি দিয়েন। কিন্তু আমার সব কিছু উলট-পালট হইয়া গেল।

গার্মেন্ট কর্মী বাবা মো. শাহ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, এবার আমাদের পরিবারে ঈদের আনন্দ নাই। শুধু ঈদের নামাজ পড়ে ওর জন্য দোয়া করেছি। তিনি বলেন, আমার ছেলে ছোটবেলা থেকেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করত। মানুষের উপকারে ছুটে যেত। গ্রেপ্তারের আগে কইছিল ঈদের জন্য টাকা পাঠাবে। চাচাদের সঙ্গে মিলে যেন কোরবানি দেই। কিন্তু সেটা আর হলো না।

উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার শাহী মসজিদ এলাকার মো. শাহ আলমের একমাত্র ছেলে রায়হান কবির ২০১৪ সালে মালয়েশিয়া যায়। সেখানে গিয়ে বিএ পাস করে এবং পড়ালেখার পাশাপাশি পার্ট টাইম জব করে। 

এর আগে ২০১৩ সালে সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ২০১১ সালে বন্দরের বিএম ইউনিয়ন স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা শাহ আলম ফতুল্লার বিসিক শিল্পাঞ্চলে একটি গার্মেন্টে চাকরি করেন। মা গৃহিণী।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা