kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

নাচে-গানে, খেলাধুলায় অনাথদের ঈদ

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

২ আগস্ট, ২০২০ ১৬:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নাচে-গানে, খেলাধুলায় অনাথদের ঈদ

পবিত্র ঈদুল আজহাকে উপলক্ষ করে চাঁদপুর সরকারি শিশু পরিবারের ২০০ অনাথ শিশু অন্য রকম আনন্দে মেতে উঠেছিল। নিজেদের সাজিয়ে তোলা, গান, খেলাধুলা আর উপাদেয় খাবার তো ছিলই। দুদিন ধরে চলা এসব শিশুর এমন নান্দনিক আয়োজনে যোগ দেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারাও।

কোনো ঈদেই ওদের অনেকেরই বাড়ি ফেরা হয় না। নেই বাবা, নেই মা-ও। আবার কারো হয়তো বা মা-বাবা দুজনই আছে। কিন্তু দুজনেরই আলাদা নতুন পরিবার। তাতে ঠাঁই হয়নি ওদের। প্রথমে খালা, নানা, নানি বা অন্য কারো কাছে আশ্রিত হয়ে অবশেষ ঠাঁই মিলেছে চাঁদপুর সরকারি শিশু পরিবারে। তাই ওদের অভিভাবক বলতে এখন সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর।

কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে অনেকেই হয়তো এবার পরিবার পরিজনের সঙ্গে কোরবানি ঈদে শামিল হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কিন্তু শিশু পরিবারের ওরা সব উৎসবেই পারিবারিক আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবু কোরবানির ঈদ হোক বা যেকোন উৎসব হোক, নতুন পোশাক, নতুন ইচ্ছা পূরণের মাধ্যমে ওদের উৎসবকে হাসিখুশি আর রঙিন করে তুলতে কখনোই সমাজসেবা অধিদপ্তরের চেষ্টার কমতি থাকে না। তাই কভিড-১৯ পরিস্থিতিতেও পুরো প্রতিষ্ঠানকে লকডাউনে রেখে শিশুদের কোরবানির ঈদের আনন্দে শামিল করার চেষ্টা করা হয়েছে।

চাঁদপুর জেলা প্রশাসক, মো. মাজেদুর রহমান খান এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম দুলাল পাটোয়ারী যৌথভাবে ঈদের আগেই শিশুদের জন্য পাঠিয়ে দেন কোরবানির পশু। এতে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে পুরো ঈদ আয়োজন। এ সময় শিশুরা আলপনা আঁকে শিশু পরিবারের অভ্যন্তরে আঁকাবাঁকা সড়কে। রঙিন কাগজে সাজিয়ে তোলে নিজেদের থাকার কক্ষগুলো। শুধু তা-ই নয়, ঈদের রাতে ফানুস উড়িয়ে, বিভিন্ন রকম বাজি-পটকা ফুটিয়ে, আর তারাবাতি জ্বালিয়ে ঈদুল আজহার উৎসবে মেতে ওঠে শিশুরা তাদের দেওয়া হয় নতুন পোশাক, খেলনা ও প্রসাধনসামগ্রী। 

শিশুরা একে অপরকে মেহেদি পরিয়ে দেয়। ঈদের সকালে কোরবানি দেওয়ার পরপরই তারা আবারও আনন্দে মেতে ওঠে। মিউজিক্যাল চেয়ার, হাঁড়ি ভাঙা, বল নিক্ষেপসহ বিভিন্ন ধরনের মজাদার খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। এতে সবার জন্যই ছিল পুরস্কারের ব্যবস্থা। মজাদার কুইজ এবং গানের প্রতিযোগিতার ফাঁকে ফাঁকে শিশুরা যখন কিছুটা  ক্লান্ত, তখন রকমারি খাবারের পসরা হাজির।

সকালে পরোটা-সেমাই, তারপর চটপটি, দুপুরে পোলাও, মুরগির রোস্ট, গরুর গোশতের সঙ্গে  কোমল পানীয়, বিকেলে দই-মিষ্টি, রাতে ভাত, গরুর গোশত, ডাল-এই ছিল শিশুদের খাদ্যতালিকায়। সার্বক্ষণিক উপস্থিত থেকে শিশুদের সঙ্গে ঈদ আয়োজন তদারকি ও আনন্দে শামিল হয়ে পুরস্কার তুলে দেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক রজত শুভ্র সরকার।

এ সময় শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমাদের এমন আনন্দের মূল কারিগর কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রজত শুভ্র সরকার আরো বলেন, প্রতিটি শিশুর শৈশব বিকশিত হোক আমাদের যত্নে আর ভালোবাসায়, ভালো থাকুক আমাদের হাসিখুশি রঙিন ফুলেরা। পরে সবাইকে ঈদ মোবারক জানিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা