kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

চামড়ার বাজারে ধস

ছাগল ১০, গরু ৫০!

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

২ আগস্ট, ২০২০ ১৫:৪৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছাগল ১০, গরু ৫০!

জয়পুরহাটে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে কোরবানির পশুর চামড়া। কম দামে কিনেও জেলার বাজারগুলোতে চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। চামড়া বাজারে এমন ধসের শিকার হয়ে ব্যবসায়ীরা দিশেহারা। পুঁজি সংকটে কাঙ্খিত পরিমাণ চামড়া কিনতে পারছেন না তারা। এদিকে পানির দরে চামড়া বিক্রি করে গরীবদের হক আদায় করা যাচ্ছে না এমন অভিযোগ কোরবানি দাতাদের। 

গত কয়েক বছর আগেও কোরবানি ঈদে জেলার বিভিন্ন বাজারে ছাগলের চামড়া দেড় থেকে দু’শ এবং গরুর চামড়া এক থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ সেই চামড়া আর বিক্রি করতে পারছেন না কোরবানি দাতারা। এবার ঈদে বড় বড় ছাগলের চামড়া ১০ থেকে ৩০ টাকা এবং বড় গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়। ছোট ছাগলের চামড়া কেউ কিনছেনই না। আর ছোট ছোট গরুর চামড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চামড়ার এমন মূল্যে কোরবানি ঈদে গরীবদের সাহায্যে ভাটা ফেলবে এমন দাবি সমাজের কোরাবানিদাতা বিত্তবানদের।

জয়পুরহাট পৌরসভার সবুজনগর মহল্লার অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আব্দুল হারিম বলেন, এবার তাঁর ৯৫ হাজার টাকার কোরবানির গরুর চামড়ার দাম ২০০ টাকা করায় তিনি তা মাদরাসায় দান করেছেন। 

একই মহল্লার ব্যবসায়ী শেখ মজিবর রহমান বলেন, ১৫ হাজার টাকা মূল্যের তাঁর কোরবানির ছাগলের চামড়া তিনি বিক্রি করেছেন মাত্র ২০ টাকায়। এ টাকা গরীবদের হক। তিনি ওই টাকার সাথে আরো টাকা দিয়ে গরীবদের দান করবেন বলে জানিয়েছেন।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার হেলকুন্ডা গ্রামের আনিছুর রহমান, কালাই উপজেলার চকগাদুকা গ্রামের নবীর উদ্দিন, ক্ষেতলাল পৌরসভার শাখারুঞ্জ চৌধূরীপাড়ার মহব্বত আলীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার কোরবানিদাতারা জানান, এবছরের মত কোনবার চামড়ার এমন মূল্যপতন আমরা দেখিনি। তারা বলেন এই কোরবানির চামড়াই গত কয়েকবছর আগে আমরা বিক্রি করেছি বর্তমান মূল্যের কয়েকগুন বেশি দিয়ে। ওইসব চামড়া বিক্রির টাকা দিয়ে গ্রামের গরীব মানুষদের অনেক উপকারও করা গেছে। অথচ এবারের চামড়ার যে দাম তাতে গরীবদের পেটেই লাথি পড়বে।

আবার পানির দরে চামড়া কিনেও লাভ করতে পারছেন না মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ কম দামে চামড়া কিনেও বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে তাদের লোকসান হচ্ছে। চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, এবারের কোরবানি ঈদে চামড়ার স্মরণকালীন দরপতনে তাদের লোকসান সবচেয়ে বেশি। প্রতি বছর কোরবানি ঈদের এ ব্যবসায় টাকা খাটিয়ে তারা ভালো লাভ করতেন। কিন্তু এবারের চামড়ার দরপতনে তাদের তহবিল লোপাট হয়েছে।

অন্যদিকে ট্যানারি মালিকদের কাছে দীর্ঘদিনে বকেয়া পাওনার পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতির কারণে চরম পুঁজি সংকটে পড়েছেন জেলার চামড়া ব্যবসায়ীরা। পুঁজি অভাবে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তারা চামড়া কিনতে পারছেন না। আবার ধারদেনা করে চামড়া কিনলেও মহাজন ও ট্যানারি মালিকদের কাছে নগদ মূল্যে বিক্রি করতে পারবেন কি-না সেই আশঙ্কাও কাজ করছে তাদের। ফলে চাহিদা কম থাকায় চামড়ার মূল্য স্বাভাবিক কারণেই কমে গেছে।

জয়পুরহাট শহরের চামড়া ব্যবসায়ী সাজু হোসেন ও শাহিন আকতার বলেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের প্রায় কোটি টাকার বকেয়া পাওনা রয়েছে। হাতে টাকা না থাকায় তারা কাঙ্খিত পরিমাণ চামড়া কিনতে পারছেন না।

এদিকে চামড়া পাচার রোধে সীমান্তে বিজিবির টহল বাড়ানোর কারণে স্থানীয় বাজারেই চলছে চামড়া কেনাবেচা। ফলে চামড়ার দরপতনে পাচার না হওয়াও একটা কারণ বলে দাবি করেন স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী।

জয়পুরহাট-২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল ফেরদৌস হাসান টিটো সাংবাদিকদের বলেন, সীমান্ত পথে চামড়া পাচার রোধে সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা