kalerkantho

বুধবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৭। ৫ আগস্ট  ২০২০। ১৪ জিলহজ ১৪৪১

মাংস পেলেন ছয় হাজার মানুষ

পোষ্টকামুরী গ্রামে একসঙ্গে ৭৯ গরু ও ৭ খাসি কোরবানি

অনলাইন ডেস্ক   

২ আগস্ট, ২০২০ ১২:৫০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পোষ্টকামুরী গ্রামে একসঙ্গে ৭৯ গরু ও ৭ খাসি কোরবানি

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পৌর এলাকার পোষ্টকামুরী গ্রামে ৭৯টি গরু ও ৭টি খাসি কোরবানি করা হয়েছে। এই পশুর এক তৃতীয়াংশ মাংস গ্রামের এক হাজার ১৮০ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। গ্রামের লোকজন ২৫ বছর যাবৎ সমাজবদ্ধ হয়ে একত্রে এক জায়গায় পশু কোরবানি করছেন বলে জানা গেছে। প্রতিবছর ১০০ এর বেশি পশু কোরবানি হলেও বন্যা ও করোনার কারণে এবছর পশু কোরবানি কম হয়েছে বলে গ্রামের বাসিন্দারাজানিয়েছেন।

জানা গেছে, পোষ্টকামুরী গ্রামটিতে প্রায় ছয় হাজার লোকের বাস। গ্রামের সব মানুষকে এক পরিবারের সদস্য মনে হয়। ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। সব ভেদাভেদ ভুলে সবাই এক কাতারে আসার নামই ঈদের বার্তা। আর কোরবানির উদ্দেশ্য হলো ত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। তাই গ্রামবাসী সমাজবদ্ধ হয়ে দুই যোগের বেশি সময় ধরে একত্রে কোরবানি করে থাকেন। 

গ্রামটিতে কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে শতাধিক মানুষের। তবে কোরবানির মাংসের জন্য গ্রামের কাউকে কোথাও যেতে হয় না। যারা কোরবানি দেন তারাসহ গ্রামের সবাইকে সমহারে মাংস দেওয়া হয়। প্রতিবছর জনপ্রতি এক কেজি করে মাংস বিতরণ করা হলেও এবছর করোনা ঝুঁকি এড়াতে গ্রামটির এক হাজার ১৮০ পরিবারের মধ্যে সমহারে তিন কেজি করে মাংস বিতরণ করা হয়। এছাড়া গ্রামের বাইরে থেকে আসা প্রায় পাঁচ শতাধিক দুস্থ ও গরিব মানুষের মধ্যে এক কেজি করে মাংস বিতরণ করেন গ্রামের লোকজন। 

প্রতিবছর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি টানা চারবারের এমপি মো. একাব্বর হোসেনের বাড়ির মাঠে গ্রামবাসী একত্রে কোরবানি করে থাকেন। এবছর বন্যায় মাঠটি তলিয়ে যাওয়ায় গ্রামের লোকজন গ্রামটির ভেতর দিয়ে যাওয়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের (পুরাতন) ওপর এবং কয়েকজন বাড়িতে পশু কোরবানি করেন। বাড়িতে কোরবানি করা পশুর এক তৃতীয়াংশ মাংস নিজ দায়িত্বে মাংস বিতরণ কাউন্টারে পৌছে দেন। মহাসড়কের ওপর কোরবানি করা পশুর মাংষ স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। পরে গ্রামটির এক হাজার ১৮০ পরিবারের মধ্যে তিন কেজি করে মাংস বিতরণ করা হয়।

গ্রামের মানুষের একসঙ্গে পশু কোরবানি দেয়া গ্রামটির রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে করে সামাজিক হৃদ্যতা বিকশিত হওয়ার পাশাপাশি ভালো কাজে উৎসাহ পাচ্ছে গ্রামবাসী।

গ্রামবাসী জানায়, গ্রামটিতে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মাতাদর্শের লোকজন থাকলেও কোরবানি উপলক্ষে তা থাকে না। ধনী-গরিব সবার মাঝে ঈদের খুশি ভাগ করে নিতে একসঙ্গে পশু কোরবানি করেন পোষ্টকামুরী গ্রামের ছয় হাজার মানুষ। ঈদের দিন কোরবানির পশু নিয়ে আসা হয় খোলা মাঠে। কোরবানির পর এক তৃতীয়াংশ মাংস একত্রিত করে তালিকা অনুযায়ী মাইকে নাম ডেকে মাংস বিতরণ করা হয়। মাংসের জন্য কাউকে ঘুরতে হয় না কারও দ্বারে দ্বারে। সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির এই মেলবন্ধন চলছে দুই যুগ ধরে। 

পোষ্টকামুরী গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, গ্রামের মধ্যে যাদের কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে তাদের সবার পশু ঈদের দিন এক মাঠে আনা হয়। একে একে কোরবানি করা হয় সব পশু। এরপর মাংস সমান তিন ভাগের এক অংশ পৌঁছে দেওয়া হয় সামাজিক কাউন্টারে। বাকি দুই ভাগ নেন কোরবানিদাতা। এমন সামাজিক সম্প্রীতির অনন্য মেলবন্ধন পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা গভীর করে বলে তারা জানান। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা