kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

তারারেই বুলে অয় না, আমরারে গোস্ত দিবো কইত্তে?

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১ আগস্ট, ২০২০ ২১:০৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



তারারেই বুলে অয় না, আমরারে গোস্ত দিবো কইত্তে?

'আমরার হেইর‌্যা (আবার) ঈদ। সারা দিন ঘুরলাম, আধা কেজি গোস্তও অইছে না। তারারেই বুলে অয় না, অহন আমরারে দিবো কইত্ত।' আজ ঈদের দিনে বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা পরিষদের কাছে ক্লান্ত শরীরে সড়কে বসে সমলা বেগম (৫০) ও জমিলা বেগম (৪৫) নামে দুই বোন এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন। এ সময় এ কথা বলে এক ধরনের লজ্জায় নিজেরাই হাসতে থাকেন।

প্রতিদিনের ন্যায় আজ ঈদের দিনেও মাংসের জন্য বের হয়েছিলেন দুই বোন। তবে ঈদের দিন হওয়ায় দুই বোনের আনন্দটাও ছিল একটু ভিন্ন। নতুন কাপড় না পরলে আনন্দের কমতি ছিল না। চারপাশে যখন গরু-খাসি কুরবানি হচ্ছিল, তখন দুই বোন বাড়ি বাড়ি গিয়ে দু-এক টুকরা মাংস  আনতে হাত পাতেন। কেউ  দিয়েছেন আবার কেউ বা পরে আসতে বলেন। এই অবস্থায় পেটে খিদে নিয়ে পাশের দোকান থেকে দুটি কেক এনে আয়েশেই খাচ্ছেন। সেই সাথে করছেন খোশগল্পও।

আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলে দুই বোন জানান, তাঁদের বাড়ি নান্দাইল ইউনিয়নের দাতারাটিয়া গ্রামে। দুজনই বিধবা। বসতভিটা ছাড়া কিছুই নেই। ভিক্ষা করে আয় থেকেই জীবন বাঁচাচ্ছেন। আজ ঈদের দিন হলেও বাড়তি কিছুই নেই। অন্যান্য দিনের চেয়েও খারাপ অবস্থা। কারণ হিসেবে তাঁরা জানান, সকলেই তো ঘরে। বাইরে আসার সময় হয়নি। বাড়িতে গেলে কেউ দু-এক টুকরা গোস্ত দেয় আবার কেউ বা পরে আসার কথা বলে ফিরিয়ে দেয়। পরে আর ওই বাড়ি যাওয়া হয়নি। সেই সাথে ধমকাধমকি তো আছেই। 

সমলা বলেন, গত পাঁচ বছর আগেও কুরবানি ঈদে মানুষ গোস্ত দিতেন সামর্থ অনুযায়ী। কিন্তু এই সময়ে অনেকেই গোস্ত দেয় না। বিভিন্ন চুতোঁয় ফিরিয়ে দেয়। জমিলা বেগম বলেন, আগে ঈদের গোস্ত দিয়েই অনেকদিন চইল্যা যাইতো, অহন বেহেই (সকল) ফিরিজে (ফ্রিজ) ডুহায়। পরে বছর বইর‌্যা খায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা