kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৭। ৬ আগস্ট  ২০২০। ১৫ জিলহজ ১৪৪১

২০ হাজার টাকার বিনিময়ে শিশু নিসাকে টুকরো টুকরো করে কেসমত!

অনলাইন ডেস্ক   

১ আগস্ট, ২০২০ ২০:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২০ হাজার টাকার বিনিময়ে শিশু নিসাকে টুকরো টুকরো করে কেসমত!

৬৫ বছর বয়সী কেসমত ফকির ওরফে দুলাল ফকির। পেশায় ফেরি করে কাপড় বিক্রি করতেন তিনি। এর আড়ালে টাকার বিনিময়ে করেছেন দুই খুন। শুক্রবার বিকেলে ঝিনাইদহের একটি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন কেসমত ফকির। জাবানবন্দিতে বেরিয়ে আসে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের শিশু জান্নাতুন নিসার হত্যার আসল রহস্য।

জান যায়, গত ১৭ মার্চ তিন বছর বয়সী শিশু জান্নাতুন নিসাকে আদর করে বাড়িতে ডেকে নিয়ে বঁটি দিয়ে টুকরা টুকরা করেন কেসমত ফকির। নিসা উপজেলা শহরের দরগাপাড়ার সবজি বিক্রেতা তোফাজ্জল হোসেন টুকু মিয়ার মেয়ে। এরপর গত ২৪ মার্চ যশোরের অভয়নগর উপজেলার ধোপাদি এলাকার একটি বাড়িতে প্রকাশ্যে দা দিয়ে হত্যা করেন সুহাসিনী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধাকে।

পুলিশ সূত্র জানায়, জান্নাতুন নিসাকে নির্মমভাবে হত্যার পর থেকে পুলিশ কেসমত ফকিরকে গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান পরিচালনা করে আসছে। পরে স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশিত একটি খুনের খবরের সূত্র ধরে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোটচাঁদপুর থানার ওসি মো. মাহবুবুল আলম। আদালত দুদিনের পুলিশ রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। বৃহস্পতিবার তাঁকে যশোর সেন্ট্রাল জেল থেকে ঝিনাইদহে আনা হয়। শুক্রবার তিনি ১৬৪ ধারায় স্থানীয় আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

জবানবন্দিতে কেসমত ফকির জানান, অবুঝ শিশু জান্নাতুনকে প্রথমে আদর করে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যান তিনি। পরে ঠাণ্ডা মাথায় ধারালো বঁটি দিয়ে টুকরা টুকরা করে হত্যা করেন। তিনি জানান, তোফাজ্জল হোসেন টুকু মিয়ার আরেক স্ত্রীর ছেলে ইউসুফের স্ত্রী সালমা বেগম। পাশাপাশি বাড়িতেই থাকেন তাঁরা। ছোট শাশুড়িকে শায়েস্তা করতে জান্নাতুনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। কেসমত ফকির মাত্র ২০ হাজার টাকায় কাজটি করতে রাজি হন। এরপর সুযোগমতো নির্মমভাবে হত্যা করা হয় নিষ্পাপ জান্নাতুনকে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান জানান, কোটচাঁদপুর উপজেলা শহরের দরগাপাড়ার সবজি বিক্রেতা তোফাজ্জল হোসেন টুকু মিয়ার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ভাড়াটিয়া ফেরিওয়ালা রাজবাড়ীর কেসমত ফকির ওরফে দুলাল ফকির। চলতি বছরের ১৭ মার্চ বিকেলে বাড়িতে একা ছিল মেয়ে জান্নাতুন নিসা। সে বাড়ির মালিকের ছোট মেয়ে।

পুলিশ সুপার জানান, গত ২৪ মার্চ অভয়নগরের ধোপাদি এলাকার সুহাসিনী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার সঙ্গে কাপড় বিক্রির সময় কথা কাটাকাটির জেরে দা দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন। পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতা হাতেনাতে ফেরিওয়ালা বেশে থাকা কেসমত ফকির ওরফে দুলাল ফকিরকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে আহত ওই নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। অভয়নগর থানায় দস্যুতাসহ একটি খুনের মামলা দায়ের করা হয় ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা