kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

শেরপুরে অধ্যক্ষের অপসারণ-বিচার দাবিতে মানববন্ধন

শেরপুর প্রতিনিধি   

১৬ জুলাই, ২০২০ ২০:২৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শেরপুরে অধ্যক্ষের অপসারণ-বিচার দাবিতে মানববন্ধন

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সীমাহীন জাল-জালিয়াতি, নিয়োগ বাণিজ্য ও অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে জড়িত জামায়াত সমর্থক বহুল আলোচিত মহিলা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের অপসারণ ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সামনের রাস্তায় ঘণ্টাব্যাপী ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুবের নির্দেশনায় ইতোমধ্যে ওই অধ্যক্ষের দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে। তাতে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতাও পাওয়া গেছে। এখন তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর পর জেলা প্রশাসক ব্যবস্থা নেবেন। তবে একজন অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এমন সীমাহীন অভিযোগ থাকার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক- যা সেই প্রতিষ্ঠানের জন্যও অমঙ্গলকর।

কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দাতা সদস্য, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কলেজের গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা একেএম বেলায়েত হোসেন, জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু তাহের, সদস্য আয়েশা সিদ্দিকা রূপালী, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ, এমপিওবঞ্চিত প্রভাষক পি.আর মুহম্মদ রাহুল ও প্রভাষক যমুনা খাতুন, ভুক্তভোগী আমিরুল ইসলাম, সোহেল মিয়া প্রমুখ।

মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান একজন জামায়াত সমর্থক লোক। তিনি ইতোপূর্বে উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির এক সভায় প্রকাশ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে অশোভন উক্তি করার পরও স্থানীয় প্রভাবশালীদের দুর্বলতায় রক্ষা পেয়ে গেছেন। তার বিরুদ্ধে নেওয়া যায়নি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। আর সেই বিষয়টিকেই পুঁজি করে তিনি এবার ডিগ্রি পর্যায়ে এমপিও তালিকা পাঠানোর ক্ষেত্রে নিয়োগ বাণিজ্যসহ সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন। তার দুর্নীতির কারণে দীর্ঘ ৮ বছর নিয়মিত চাকরি করেও ইংরেজি প্রভাষক পি.আর মুহম্মদ রাহুল ও দর্শন প্রভাষক যমুনা খাতুন এমপিওবঞ্চিত হয়েছেন। আর তাদের স্থলে নগদ নারায়ণ হাতে নিয়ে একদিনও ক্লাস না নেওয়া আবু হানিফ ও আফরোজা আক্তার নামে অপরিচিত ও অন্যত্র চাকরিজীবীকে এমপিওভূক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া আর্থিক দুর্নীতির মাধ্যমে অপরিচিত ও অন্যত্র সরকারি-বেসরকারি চাকরিরত আসমাউল আলিয়া প্রভাষক (বাংলা), আব্দুর রহিম প্রভাষক (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) ও মুজিবুর রহমানকে প্রভাষক (অর্থনীতি) হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করেছেন। অধ্যক্ষের স্ত্রী মাহমুদা সিদ্দিকার স্নাতক ও শিক্ষক নিবন্ধন সনদসহ আরও একাধিক শিক্ষককে চাকরিতে ঢুকানো হয়েছে জাল সনদে। এ ছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ৬ জন কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও করেছেন দুর্নীতি। তার ওইসব দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তপূর্বক তাকে অধ্যক্ষের পদ থেকে অপসারণ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ভুক্তভোগী শিক্ষকদের চাকরির সুরাহাসহ জালিয়াতকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে এমপিওবঞ্চিত প্রভাষকদের স্বজন ও অন্যান্য ভুক্তভোগীরাসহ ঝিনাইগাতী উপজেলার স্থানীয় সচেতন মহল অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে কলেজ অধ্যক্ষের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। কিছু লোক প্রতিহিংসাবশত আমার বিরুদ্ধে লেগেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা