kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

বাঁধ দিয়ে আ’লীগ নেতার মাছ শিকার, পানিবন্দি দেড় শ পরিবার

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১৬ জুলাই, ২০২০ ১৯:৫৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাঁধ দিয়ে আ’লীগ নেতার মাছ শিকার, পানিবন্দি দেড় শ পরিবার

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বড় শশী ইউনিয়নের তেঁতুল মোড় এলাকায় একটি কালভার্টের মুখে বাঁধ দিয়ে স্থানীয় আ. লীগ নেতা মাছ শিকার করায় ওই এলাকার দেড় শ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বের হওয়ার সুযোগ না পাওয়ায় ওই পরিবারগুলোকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে  তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

স্থানীয়রা জানান, তিন মাস আগে বড় শশী ইউনিয়নের তেঁতুল মোড়ের খানিক পশ্চিমে সড়কের ওপর থাকা কালভার্টের মুখে রাতারাতি দেয়াল তুলে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার শুরু করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস আলী ও তাঁর সহযোগীরা। ইদ্রিস বড় শশী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি।

কালভার্টের মুখে বাঁধ দেওয়ায় স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানায়। এমনকি বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিসও হয়েছে। প্রভাবশালী হওয়ায় সালিসের সিদ্ধান্ত মানেনি ইদ্রিস।

গত কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে পঞ্চগড়ের সব নদী ও খাল-বিলে পানি বাড়তে থাকে। ওই কালভার্টের মুখে বাঁধ দেওয়ায় উজানে পানিবন্দি হয়ে পড়ে ওই ইউনিয়নের আরাজি মাড়েয়া সরকারপাড়া ও যুগীদুয়ার এলাকার দেড় শ' পরিবার। পানি সরে যাওয়ার পথ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। তলিয়ে গেছে আমনের বীজতলা। বেড়িয়ে গেছে পুকুরের মাছ। বিনা বন্যায় তাদের ছেলেমেয়ে নিয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাতে হচ্ছে। ওই এলাকার দেড়শ পরিবারের প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ দুর্ভোগে দিন কাটালেও বেশ খোসমেজাজেই ওই কালভার্টে বাঁধের মধ্যে জাল ফেলে দিব্যি মাছ ধরছেন আলীগ নেতা ইদ্রিস ও তার সহযোগিতারা। এ  বিষয়ে ভুক্তভোগিরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ভুক্তভোগী আজম আলী বলেন, আমাদের এলাকায় বর্ষাকালেও পানি জমে থাকে না। এবারই প্রথম কালভার্টের মুখে বাঁধ দেয়ার কারণে আমরা পানিবন্দি হয়ে পড়েছি। শুধুমাত্র ইদ্রিস ও তার সহযোগিতার রাতের আঁধারে বাঁধ দেয়ায় আমাদের এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাঁধ দিলেও কেউ কোন ব্যবস্থা নেয় নি। এতে আমনের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। পুকুরের মাছ বেরিয়ে গেছে। ঘরবাড়িতে পানি উঠায় রান্নাবাড়াও করা যাচ্ছে না। এই পানি দ্রুত সরে যাওয়ার ব্যবস্থা না করলে আমাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।

ওই এলাকার গৃহবধূ আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, তারা কালভার্টের মুখে বাঁধ দিয়ে আনন্দে মাছ ধরছে আর আমরা দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছি। চারপাশে পানি থাকায় ছোট ছেলেমেয়ে নিয়ে শঙ্কার মধ্যে থাকতে হয়। বিনা বন্যায় ডুবে মরছি আমরা। আমাদের দাবি প্রশাসন যেন দ্রুত এই কালভার্টের বাঁধ ভেঙে দিয়ে পানি বেড়িয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে। 

আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস আলীর বলেন, আমাদের জমিগুলো কালভার্টের মুখে হওয়ার কারণে ঠিকমতো পানি থাকে না। তাই বাঁধ দিয়ে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করেছি। যাতে করে ভালোভাবে আমন ধান রোপন করা যায়। মাছ ধরা আমাদের উদ্দেশ্য নয়।

বড়শশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন বলেন, কালভার্টের মুখে বাঁধ দেয়া নিয়ে আমি ও ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিলে একাধিকবার শালিস করেছি। ইদ্রিস ও লোকজন আমাদের কোনো কথাই মানছে না। বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।

বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোলেমান আলী বলেন, অভিযোগ পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ওই কালভার্টের সামনে দেয়াল তুলে যে বাঁধ দেয়া হয়েছে আমরা তা দ্রুত তাদের ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছি। আশা করি কাল পরশুর মধ্যে তা ভেঙে দেয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা