kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

দুর্ভোগের শেষ নেই জামালপুর শহররক্ষা বাঁধে আশ্রিতদের

জামালপুর প্রতিনিধি   

১৬ জুলাই, ২০২০ ১৯:১৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুর্ভোগের শেষ নেই জামালপুর শহররক্ষা বাঁধে আশ্রিতদের

পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এই নদের পানি বাড়তে থাকায় জামালপুর শহর ঘেঁষা দেওয়ানপাড়ার নাওভাঙা চরে প্রায় বুকসমান পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে চরের দেড় শতাধিক দরিদ্র পরিবারের বাড়িঘর প্রায় ডুবে গেছে। এই চরের কৃষক, কৃষিশ্রমিক ও অন্যান্য পেশার শ্রমজীবী দরিদ্র পরিবারগুলো বাড়িঘর ফেলে সংসার পেতেছে জামালপুর শহররক্ষা বাঁধে। আশ্রিত পরিবারগুলো তীব্র খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সঙ্কটে খুবই মানবেতর জীবন যাপন করছে।

জানা গেছে, এবার প্রথমদফার বন্যায় বাড়িঘরে পানি উঠায় ব্রহ্মপুত্র নদের নাওভাঙা চরের প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার তাদের সংসারের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে জামালপুর শহর রক্ষাবাঁধসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু পানি সরতে না সরতেই দ্বিতীয়দফা বন্যা শুরু হওয়ায় তারা আর নিজেদের বাড়িঘরে ফিরে যেতে পারেননি। গত কয়েকদিনের বন্যায় নাওভাঙা চরে প্রায় সবার ঘরেই পানি উঠেছে। ডুবে গেছে সবগুলো নলকূপ ও লেট্টিন। পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে গোটা চর এলাকা।

ফলে কৃষক, কৃষিশ্রমিক, হোটেল শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার দরিদ্র পরিবারগুলো গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে জামালপুর শহররক্ষা বাঁধে পলিথিন ও ত্রিপল দিয়ে ছাপরা ঘর তুলে তাদের সংসার পেতেছে। টানা বন্যার কারণে তাদের অধিকাংশরাই এই বাঁধে অবস্থান করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। খোলা জায়গায় বাঁধ এলাকা হওয়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানি এবং ল্যাট্রিনের ব্যবস্থা না থাকায় এই বাঁধে আশ্রিত পরিবারগুলোর নারী ও উঠতি বয়সের মেয়েরা পড়েছে বিপাকে। বন্যার্ত এই পরিবারগুলো শহরের অফিসপাড়া এলাকার কাছেই আশ্রয় নিলেও তারা সরকারি সহায়তার ত্রাণ সামগ্রী যা পেয়েছে তা খুবই অপ্রতুল। ফলে আশ্রিত প্রতিটি পরিবারেই দেখা দিয়েছে খাদ্য সঙ্কট।

বাঁধে আশ্রিত বিধবা মনোয়ারা বেগম (৪৫) বললেন, ‘অবস্থা আঙ্গরে খারাপই। না পাওয়া যাইতাছে ভাত। না পাওয়া যাইতেছে পানি। কাছেকুলে শহরের বাসাবাড়িতে পানি আনবের গেলে। একটু বাথরুম করবের গেলে কেউ দিবার চায় না। এইডেই বড় কষ্ট। একদিন না খাইলেও থাহন যায়। এলা প্রস্রাব-পায়খানা ধরলে কি থাহন যায়। দিনের বেলাই বেশি সমস্যা অয়। এই কারণেই ওই ঘরের একটা যুবতী মেয়ে রোগীই অয়া গেছে। সবারই একই সমস্যা। আমরা ত্রাণসায্যও তেমুন পাই নাই। প্রথম বন্যায় পৌরসভা তনে রুনু কাউন্সিলরে সবাইরে ১০ কেজি কইরা চাউল দিছে। হেরপর বিডিআরেরা একদিন পাঁচ কেজি কইরা চাউল, এক কেজি ডাইল, এক কেজি আলু, আধাকেজি লবণ আর আধা লিটার তেল দিয়া গেছে। আইজ পরায় বিশদিন ধইরা আটকা পড়ছি। এই দিয়া কি চলে।

হোটেল শ্রমিক সোহেলের (৩৭) সংসারে স্ত্রী আর দুই সন্তান নিয়ে খুবই সমস্যায় আছেন। তিনি বলেন, ‘এইখানে খোলা জায়গা। আরো অনেকেই মা-বোনদের নিয়া এইখানে থাকাডা লজ্জাজনক বইলা এই বাঁধে আসে নাই। অনেকেই ঘরের মধ্যে মাচা কইরা মেলা কষ্টে থাকতাছে চরে। পানি যে হারে বাড়তাছে সবারই চইলা আসতে অইবো।’

জামালপুর পৌরসভার মেয়র মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি এ প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে বলেন, জামালপুর শহর রক্ষা বাঁধে আশ্রিত নাওভাঙা চরের ৮০টি পরিবারকে একবার ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। কিছুদিন একটি সংস্থা তাদের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করেছে। বিজিবি সদস্যরাও কিছু চাল, ডাল, তেল, লবণ বিতরণ করেছে। বিশুদ্ধ খাবার পানি বা লেট্রিনের সমস্যা তাদের কোন সমস্যা না। তাদের প্রত্যেকের নৌকা আছে। নৌকা দিয়েই তারা চরে গিয়ে পানি আনে এবং অন্যান্য কাজ সারে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ থেকে তাদেরকে সরানোর জন্য বলেছিল। কিন্তু বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে মানবিক কারণে তাদেরকে সরানো হয়নি। ত্রাণ বরাদ্দ পেলে বাঁধে আশ্রিত বন্যার্ত পরিবারগুলোর মাঝে পুনরায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা