kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

অর্ধশতাধিক ডায়াগস্টিক সেন্টারে জালিয়াত চক্র

পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট, ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা

বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৬ জুলাই, ২০২০ ১৮:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট, ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা

নেই কোনো ল্যাব। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোনো প্রশিক্ষিত ল্যাব টেকনিশিয়ান বা ল্যাব সহকারী নেই। ল্যাব পরিচালনার সকল কাগজপত্রই মেয়াদোত্তীর্ণ। পরীক্ষার পূর্বেই রাখা হয়েছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্যাডে ল্যাব টেকনিশিয়ান ও ডাক্তারের স্বাক্ষর। পরে রিপোর্ট বানিয়ে পূর্বেই স্বাক্ষরিত প্যাডে রোগীদের রিপোর্ট দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় জালিয়াত চক্র। এভাবেই বছর বছর ধরে চলছে বোয়ালখালীর বেশীর ভাগ ডায়াস্টিক সেন্টার। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোনো ধরনের পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে আসছিল বোয়ালখালী উপজেলার নিউ শেভরন নামের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। দেশের এক স্বনামধন্য চিকিৎসকের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে রোগীদের বছরের পর বছর ভুল রিপোর্ট দিয়ে প্রতারণা করে আসছে তারা। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে ওই চিকিৎসক চক্রটিকে ধরতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। কয়েকদিন আগে ফাঁদে পা পড়ে প্রতারক চক্রটির। 

চিকিৎসকের পরিচিত এক ব্যক্তি তার প্রসাব পরীক্ষা করাতে যান নিউ শেভরন ডায়গস্টিক সেন্টারে। তবে তিনি প্রসাবের পরিবর্তে দেন পানি। একদিন পর কোনো ধরনের পরীক্ষা না করে তার রির্পোট দেন নরমাল। রিপোর্টে চিকিৎসকের স্বাক্ষরটি জাল দেখে ওই চিকিৎসক এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহীর কাছে  অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিউ শেভরন ডায়াগস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা  করেন উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানায়, অভিযোগ পেয়ে গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলার শাকপুরা চৌমুহনী বাজারে আজিজ মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় পরিচালিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। 

এ সময় ডায়গস্টিক সেন্টারটি সিলগালা করে দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আবু নইমকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ২০০৯ এ ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করেন।

এ বিষয়ে অভিযানে নেতৃত্বদানকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, নিউ শেভরন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রোগীদের কাছ থেকে স্যাম্পল নিয়ে পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট দিয়ে দেয়া হচ্ছিল। পরীক্ষার পূর্বেই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্যাডে ল্যাব টেকনিশিয়ান ও ডাক্তারের স্বাক্ষর রাখা হয়েছে। পরে রিপোর্ট বানিয়ে পূর্বেই স্বাক্ষরিত প্যাডে রোগীদের রিপোর্ট দেওয়া হতো। রিপোর্ট দেওয়া প্যাডে প্রাপ্ত চিকিৎসক উপরন্তু ডায়াগনস্টিক সেন্টারটিতে কোনো প্রশিক্ষিত ল্যাব টেকনিশিয়ান বা ল্যাব সহকারী পাওয়া যায় নাই। ল্যাব পরিচালনার কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখা যায় সকল কাগজই মেয়াদোত্তীর্ণ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  ভুক্তভোগী ওই চিকিৎসক বলেন, তিনি বর্তমানে রাঙ্গামাটিতে কর্মরত রয়েছেন। বোয়ালখালীর নিউ শেভরন ডায়াগস্টিক সেন্টারের সাথে তার কোনো জানাশোনা নেই। এ ল্যাবে কোনোদিন তিনি যাননি। কিন্তু তারা তার স্বাক্ষর জাল করে রোগীদের ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে আসছেন। বিষয়টি তিনি জানতে পেরে প্রশাসনকে অভিযোগ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে বোয়ালখালী নিউ শেভরন ডায়াগস্টিক সেন্টারের পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, এখানে একাধিক পরিচালক রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। 

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু বোয়ালখালী নিউ শেভরন নয় এমন অভিযোগ রয়েছে বোয়ালখালীর আরো বেশ কিছু ডায়াগস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। যা সাধারণ মানুষ বছরের পর বছর প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পান না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা